ঢাকা: রাজধানীর শ্যামপুরে গৃহবধূ আফরা খানের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী মো. রাহাত হোসেনকে (২২) দুই দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম মামলার তদন্ত কর্মকর্তার করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা রাহাতকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে আসামির পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিলের আবেদন করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আকতার হোসেন সোহেল রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় গ্রেফতার রাহাতের মা, বাবা ও ভাই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৮ মে আফরা খানের সঙ্গে রাহাত হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর থেকেই যৌতুক ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আফরার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২০ আগস্ট ভোরে শ্যামপুরের ডিআইটি প্লট এলাকার বাসা থেকে গুরুতর অবস্থায় আফরাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের মা লাকী আক্তার বাদী হয়ে শ্যামপুর মডেল থানায় হত্যা ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ রাহাতকে গ্রেফতার করে। ২২ আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করা হলে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে নিহত আফরা খানের স্বজনরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। এ সময় তারা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ‘বিচার চাই’ স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, নিহত আফরা খান রাজধানীর মনিজা রহমান গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।