Sunday 25 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

মেট্রোরেলের ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত: সেতুমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৩৬ | আপডেট: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:০৭

জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখছেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ৭৩০টি ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাডের মধ্যে ১৪৭টির ত্রুটিকে মাইনর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২৯৭টি প্যাডের ক্ষেত্রে ত্রুটি মূলত স্থাপিত বেয়ারিং প্যাডের স্থাপন ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত। শুধু ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি লিখিতভাবে এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম জানতে চান যে, স্বাধীন অডিট কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটে বেয়ারিং প্যাডের ২৩.২৮ শতাংশ বা ৭৩০টি ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গিয়েছে; ৪৬টি পিলারে ফাটল বিষয়টি সত্য হলে, জনস্বার্থে উক্ত সমস্যা সমাধানসহ যাত্রী সাধারণের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

জবাবে সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম তথ্যটি বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে জানান, চিহ্নিত ৭৩০টি ত্রুটিপূর্ণ বেয়ারিং প্যাডের মধ্যে ১৪৭টির ত্রুটিকে ‘মাইনর’ বা অতি সামান্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনকালীন কারিগরি বা ওয়ার্কম্যানশিপ সংক্রান্ত। কেবল ২৭টি বেয়ারিং প্যাডকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বা ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যেগুলোর সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ইতিমধ্যে ২৭টি স্থানে ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে এবং নির্ধারিত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো সম্পূর্ণ পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সেফটি অডিট কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় সূক্ষ্ম ফাটল বা ক্র্যাক পরিলক্ষিত হওয়ার বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করে মন্ত্রী জানান, যেসব স্থানে বেয়ারিং প্যাড স্থানচ্যুতির আশঙ্কা রয়েছে এমন ১০টি স্পর্শকাতর জায়গায় ইতিমধ্যে শক্তিশালী ‘স্টিল ব্র্যাকেট’ বসিয়ে অবকাঠামো সুরক্ষিত করা হয়েছে।

মেট্রোরেলে ভ্রমণকারী যাত্রীসাধারণের শতভাগ নিরাপদ ভ্রমণ সুনিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, স্বাধীন সেফটি অডিট কমিটির দেওয়া সুপারিশগুলোর সঠিক ও সময়োপযোগী বাস্তবায়ন তদারকি করতে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) গত ১৬ জুলাই ‘সেফটি অডিট রিপোর্টের সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে এবং তারা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ৪৬টি পিলারে পরিলক্ষিত ফাটলের ঝুঁকি সঠিকভাবে নিরূপণ ও এর স্থায়ী মেরামত কৌশল নির্ধারণের জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) ‘স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট’ হিসেবে নিয়োগ প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্থাপনার ফাটলের ব্যাপ্তি পরিমাপ ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানোর কাজ চলছে, যা আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর