Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পর্যটন বিকাশে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় জরুরি: মীর হেলাল

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:২০

আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভা

ঢাকা: পর্যটন শিল্পের বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে সরকার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের নেতৃত্ব ও বিপণনের দায়িত্ব বেসরকারি খাতকেই নিতে হবে। পর্যটন শিল্পকে আমরা বাংলাদেশে খুব আন্ডাররেট করি। অথচ পৃথিবীর অনেক দেশ শুধু পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি পরিচালনা করছে। আমাদের প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্পদের দিক থেকে অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে সমন্বয় ও যোগাযোগের ঘাটতি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পর্যটন খাতকে পিসমিল বা বিচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ শিল্পের উন্নয়নে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধন ও সমন্বয় প্রয়োজন। সরকার শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় সুবিধা দিতে পারে, কিন্তু শিল্পের নেতৃত্ব, বিপণন ও ব্র্যান্ডিংয়ে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে।

সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো একটি খাতে সরকারের একার পক্ষে সব দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয়। কোথায় কত বিনিয়োগ প্রয়োজন, কীভাবে সেই বিনিয়োগ বাস্তবায়ন হবে এবং সরকারের কী ধরনের সহযোগিতা দরকার- এসব বিষয় সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।

দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বে তুলে ধরতে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিংয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। মীর হেলাল বলেন, দেশের কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা এমনভাবে প্রচার করা হয়, যাতে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হয়। অথচ বাংলাদেশে অসংখ্য ইতিবাচক ঘটনা ও অর্জন রয়েছে, যেগুলো যথাযথভাবে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আমরা নিজেরাই কীভাবে উপস্থাপন করছি, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি দেশ সম্পর্কে বিশ্ববাসী যখন জানতে চায়, তখন ইন্টারনেটে কী তথ্য ও সংবাদ সামনে আসছে, সেটি দেশের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে।

পর্যটন শিল্পের সঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকার সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মানুষের আতিথেয়তা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন অর্জন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরলে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব।

পার্বত্য চট্টগ্রামের পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে নিরাপদ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অনেক এলাকা অত্যন্ত সুন্দর। এসব স্থান পর্যটনের আওতায় আনতে পারলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নতুন গন্তব্য তৈরি হবে।

বিদেশি পর্যটকদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মীর হেলাল বলেন, বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের চাহিদা ও সংস্কৃতি বিবেচনায় নিয়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় বিনোদন ও অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো পর্যটক যখন বিদেশে ছুটি কাটাতে আসেন, তখন তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা ও সঞ্চয় করে সেই ভ্রমণে আসেন। তাই বাংলাদেশে এসে যেন তিনি প্রত্যাশিত সেবা পান, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিমানবন্দরের সেবার মান নিয়েও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিমানবন্দরে একাধিক সংস্থা কাজ করায় কোনো একটি সেবার ত্রুটির দায় অন্য সংস্থার ওপর পড়ছে। লাগেজ ব্যবস্থাপনা, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয় প্রয়োজন। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যদি সরকারি ব্যবস্থার চেয়ে ভালো সেবা দিতে পারে, তাহলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে সেই সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে। যেসব ক্ষেত্রে বেসরকারি খাত ভালো সেবা দিতে পারে, সেখানে তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পর্যটন উন্নয়নে ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত করার কথাও জানান তিনি। এসব ক্ষেত্রে অটোমেশন ও অনলাইন সেবা চালুর মাধ্যমে প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

পর্যটন খাতের সব অংশীজনকে নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে মীর হেলাল বলেন, পর্যটন খাতের অংশীদার শুধু একটি মন্ত্রণালয় নয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র, ভূমি, অর্থসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা এবং বেসরকারি খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আপনারা যখন ডাকবেন, সবাইকে ডাকবেন। কারণ আপনাদের পার্টনার অনেক।

পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বিশেষ করে কক্সবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় পর্যটন পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য নিয়মিত পুলিশকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিলে তাদের অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। তাই পর্যটন পুলিশের সক্ষমতা ও জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান সামীমুজ্জামান। আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা, বেসরকারি পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা, সংশ্লিষ্ট অংশীজন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪০৩
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫:১৬

আরো

সম্পর্কিত খবর