Thursday 24 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কাউন্সিলর একরাম হত্যা: অভিযোগ গঠন শুনানি রোববার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:২০

কাউন্সিলর একরামুল হক।

ঢাকা: কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আগামী রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিজ্ঞাপন

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন জানান, বৃহস্পতিবার মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণ বেঞ্চ না থাকায় শুনানি পিছিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিন সকালে মামলায় গ্রেফতার চার আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান।

মামলার পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ। এছাড়া মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট সাতজন পলাতক আসামি রয়েছেন।

এর আগে, ৭ সেপ্টেম্বর পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছিল।

গত ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ সাত আসামিকে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ দেওয়া হয়। তবে ৭ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেফতার চার আসামি ট্রাইব্যুনালে হাজির হলেও পলাতক আসামিরা আত্মসমর্পণ করেননি। এর আগে ২৬ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে একরামুল হককে অবৈধভাবে আটক ও অপহরণ, কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে প্রসিকিউশনের আনা এসব অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে প্রমাণিত হয়নি। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সারাবাংলা/টিএম/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর