ঢাকা: বয়স কেবলই একটি সংখ্যা, জীবনের শেষ অধ্যায় নয়; বরং এটি অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও ত্যাগের এক বিশাল সমাহার। আমাদের জীবনের পথচলায় যাদের হাত ধরে আজকের এই সুন্দর পৃথিবী, সেই প্রবীণ মানুষগুলোকে সম্মান ও ভালোবাসা জানানোর বিশেষ দিন আজ। প্রতিবছরের মতো এবারও ১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রার আজ ৩৬ বছর পূর্ণ হলো। ১৯৯০ সালের ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিবছর ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী দিনটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বর্তমান বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবারের আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দীর্ঘ জীবনের জন্য নতুন ভাবনা’ বা ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’। এই প্রতিপাদ্যের মূল তাৎপর্য হলো—মানুষের জীবনকাল দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোগুলোকে নতুনভাবে সাজানো, যাতে প্রবীণরা একটি মর্যাদাপূর্ণ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করতে পারেন।
আমাদের সমাজে প্রবীণরা হলেন বটবৃক্ষের মতো, যাদের ছায়ায় সুরক্ষিত থাকে পরিবার ও সমাজ। তাদের জীবনের সোনালী সময়গুলো ব্যয় হয়েছে আমাদের আজকের ভবিষ্যৎ গড়তে। অথচ বার্ধক্যে এসে অনেকেই নিঃসঙ্গতা, শারীরিক অসুস্থতা এবং অবহেলার শিকার হন। দীর্ঘ জীবনের এই যাত্রাকে সহজ ও আনন্দদায়ক করতে তাই শুধু পারিবারিক দায়িত্বই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
বার্ধক্য মানেই নিষ্ক্রিয়তা নয়; বরং প্রবীণদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে নতুন প্রজন্ম অনেক কিছু শিখতে পারে। কর্মক্ষমতা ফুরিয়ে গেলেও তাদের মানসিক সমর্থন এবং দিকনির্দেশনা সমাজের ভিত্তি শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের এই দিনে আমাদের প্রত্যয় হোক প্রবীণদের শুধু একদিনের জন্য নয়, বছরের প্রতিটি দিন যেন আমরা নিরাপদ, সম্মানিত এবং ভালোবাসায় ভরপুর রাখতে পারি। তাদের মুখের একটি কোণায় মৃদু হাসি ফুটিয়ে তুলতে পারলেই এই বিশেষ দিনের সার্থকতা পূর্ণতা পাবে।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের প্রবীণ নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে রয়েছে র্যালি, আলোচনা সভা, জাতীয় পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, মোবাইল অপারেটরদের মাধ্যমে প্রবীণদের মর্যাদা বিষয়ে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার।