ঢাকা: স্বাস্থ্যখাতে রেকর্ড বরাদ্দকৃত বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে চটকদার বা জনতুষ্টিমূলক কাজের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার নির্দেশনা দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, শুধু খরচ করার জন্য টাকা ব্যয় করা বা অপরিকল্পিতভাবে বড় বড় ভবন ও দামি যন্ত্রপাতি কেনা কোনোভাবেই জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে না। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য আগামী ১০ বছরের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও প্রান্তিক মানুষবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট বাজেট বরাদ্দ এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ প্রাপ্তির উপায় ও ভবিষ্যৎ করণীয় শীর্ষক এক গোলটেবিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং বিশিষ্ট চিকিৎসকরা অংশ নেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, সরকার স্বাস্থ্যখাতে ৭০ হাজার কোটি টাকার সর্বোচ্চ বাজেট দিয়েছে। এই বিশাল অর্থের প্রতিটি পয়সা যেন জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় হয় এবং কোনো ধরনের দুর্নীতি যেন এর অপব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ ও অসংক্রামক রোগের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। শুধু দামি যন্ত্রপাতি বা হাসপাতাল ভবন বানিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ, হেলথ প্রমোশন এবং প্রিভেন্টিভ হেলথ কেয়ারে অর্থ বিনিয়োগ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময়ে কোনো ধরনের বিকল্প চিন্তা না করেই হঠাৎ করে সেক্টর ওয়াইড প্রোগ্রাম এবং অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ করে দেওয়ার ফলে টিকাদান থেকে শুরু করে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে বড় ধরনের বিপর্যয় ও বিঘ্ন ঘটেছিল। সদিচ্ছা থাকলেই প্রশাসন চালানো যায় না, প্রতিটি সিদ্ধান্তের সুদূরপ্রসারী পরিণতি থাকে।
আগামী দিনে স্বাস্থ্যখাত কোন কাঠামোগো পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে- সেটি নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পুনরায় গোলটেবিলে বসে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রস্তাবনা তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি।