ঢাকা: ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র সরে গিয়ে জমতে শুরু করেছে মেঘের আস্তর, তবে বিদায়লগ্নে শীতের আমেজ নিয়ে দরজায় কড়া নাড়ছে প্রকৃতি। বঙ্গোপসাগরের বুকে সৃষ্ট প্রবল এই ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপ আকারে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে ধীরে ধীরে কাটছে মেঘের আনাগোনা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় শীতের হালকা ছোঁয়া অনুভূত হতে চলেছে।
বুধবার ( ৪ নভেম্বর ) আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’র শক্তি ক্ষয় হয়ে এটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ উপকূলীয় ও অন্যান্য এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আজ সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এ সময় চট্টগ্রামের আমবাগানে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা জানান দিচ্ছে উত্তরাঞ্চলে শীতের আবহ ইতিমধ্যেই উঁকি দিতে শুরু করেছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস বলছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। একই সঙ্গে দিনের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে। বিশেষ করে রাতের দিকে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা শীতের আমেজ কিংবা কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের পূর্বাভাস মিলছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
সমুদ্রের বুকে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের মেঘমালা ও অস্থিরতা কেটে গিয়ে এই শুষ্ক আবহাওয়া এবং ক্রমান্বয়ে তাপমাত্রা হ্রাসের মধ্য দিয়ে মূলত বাংলায় শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে আবহাওয়ার এমন পালাবদল জনজীবনে এনে দিচ্ছে এক নতুন স্বস্তি ও বৈচিত্র্য।