হাসান আজাদ, স্পেশাল করসপন্ডেন্ট
ঢাকা: মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন লাইন নির্মাণে ৫ কোম্পানীর দরপ্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। মোট ৭৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপ লাইন নির্মাণে মোট খরচ হবে ২১৬ কোটি ৭ লাখ এক হাজার ১৩ টাকা। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানীর (জিটিসিএল) অধীনে এই প্রকল্পটি ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানী দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ এর আওতায় দরপত্র ছাড়া বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া প্রকল্পটি সরকারের ফাস্ট ট্র্যাক্ট ভুক্ত বা অগ্রাধিকারের প্রকল্প। জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, আগামী ক্রয় সংক্রান্ত জাতীয় কমিটিতে বা পারচেজে অনুমোদনের জন্য এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে।
জিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচাপলক ইঞ্চিনিয়ার মো: আতিকুজ্জামান এ প্রসঙ্গে সারাবাংলা’কে বলেন, মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস পাইপ লাইন ৫টি ভাগে ৫টি কোম্পানী কাজ করবে। এসব কোম্পানির সঙ্গে আমরা দরপ্রস্তাব নেগোসিয়েশন করেছি। এসব দরপ্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পারচেজে উত্থাপন করতে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য জ্বালানী বিভাগের যুগ্ন-সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার গত ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে সার-সংক্ষেপ পাঠান। উচ্চচাপ ক্ষমতার ৪২ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস সঞ্চালন সমান্তরাল পাইপ লাইনটির মোট দৈর্ঘ্য ৭৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে মহেশখালী সিটিএমএস থেকে মহেশখালী চ্যানেলের পূর্ব পাড় পর্যন্ত ১৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করবে পাইপলাইনারস লিমিটেড। এজন্য ব্যয় হবে ৫৬ কোটি ৮৭লাখ ১৫ হাজার ৭৯০ টাকা।
মহেশখালী চ্যানেলের পশ্চিম পাড় থেকে টইটং পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করবে রয়েল টেকনিক জেভি। এতে ব্যয় হবে ৪৯ কোটি ৪ লাখ ৪ হাজার ৬৩০ টাকা। টইটং থেকে দক্ষিণ জলদি পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করবে ক্যাস্টেল কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড। এতে খরচ হবে ৪২ কোটি ৬৭ লাখ ৪৫ হাজার ১৯৫ টাকা।
দক্ষিণ জলদি থেকে বানীগ্রাম পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের এই অংশটুকু নির্মাণ করবে লিবরা এন্টারপ্রাইজ। এতে ব্যয় হবে ৩৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আর বানীগ্রাম থেকে আনোয়ারা সিজিএস পর্যন্ত ১৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করবে দীপন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড। ব্যয় হবে ৩৪ কোটি ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯৭ টাকা।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের আওতায় মহেশখালী উপজেলায় ৬শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কাস্টডি ট্রান্সফার মিটারিং স্টেশন (সিটিএমএস) স্থাপনের কাজ চলছে। মহেশখালী উপজেলার দক্ষিণে সোনাদিয়া এলাকায় অর্থাৎ পাইপ লাইন স্থাপনের প্রবেশদ্বারে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড (ইইবিএল) কর্তৃক বিওটি পদ্ধতিতে এ টার্মিনালের নির্মাণের ২০১৬ সালের ১৮ জুলাই ইর্স্টান রিফাইনারির সঙ্গে দৈনিক ৫০০ এমএমসিএফ ক্ষমতা সম্পন্ন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের চুক্তি স্বাক্ষর করে পেট্রোবাংলা।
চলতি বছরের ডিসেম্বর মাস নাগাদ মহেশখালী সিটিএমএস’র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে মহেশখালীর অদূরে গভীর সমুদ্র বন্দরে পেট্রোবাংলা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এলএনজি টার্মিনাল তথা ফ্লোটিং স্টোরেজ এন্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) থেকে দৈনিক ৫শ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মহেশখালী –আনোয়ারা পাইপ লাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করা সম্ভব হবে।
সারাবাংলা/এইচএ/জেএএম