Friday 17 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হারিয়ে যাওয়া মারিয়া ফিরল মায়ের কাছে


১০ জানুয়ারি ২০১৮ ০৮:৩৭ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০১৮ ১৮:৪৯
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জাকিয়া আহমেদ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে হারিয়ে যাওয়া মারিয়াকে অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ছয় মাস পর মায়ের কাছে ফিরল সাত বছরের মারিয়া। গত রবিবার (৭ জানুয়ারি) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পল্লবী থানার যৌথ উদ্যোগে মারিয়াকে তার মা মানসুরার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গত বছরের ২৩ আগস্ট হাসপাতাল থেকে মারিয়া নিঁখোজ হয়।

মা মানসুরা গত পাঁচ বছর ধরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে ২০১৬ সালে গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরিয়মের চিকিৎসার বিষয়ে উদ্যোগ নেয়। পরে মানসুরা কিছুটা সুস্থ হয়। তবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তাদের যাওয়ার যায়গা ছিল না। তাই হাসপাতালেই থাকছিলেন মানসুরা। আর এই পুরোটা সময় ধরে সঙ্গে ছিল শিশু কন্যা মারিয়া। হাসপাতালে এই ছোট মেয়েটিই মায়ের দেখাশোনা করতো। শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বারান্দার বেডে কাটছিল মানসুরা ও মারিয়ার দিন। মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সী মেয়েটি বিছানাতেই মাকে পায়খানা করাতো, মায়ের চুল আঁচড়ে দিতো, নিজেদের থালা-বাসন ধুঁয়ে দিত, মাকে বিছানায় বসিয়ে ভাত বেড়ে খাওয়াতো, প্লাস্টিকের বোতলে করে খাবার পানি এনে দিত, কাপড় ধুঁয়ে রোদে শুকাতে দিত। সেগুলো শুকিয়ে গেলে ভাঁজ করে বিছানায় রাখা-সবই করতো এই ছোট মেয়েটি। এই ঘটনার সাক্ষী ছিল হাসপাতালটির সকল কর্মচারি। সেই মারিয়া হঠাৎ হারিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, গত বছরের ২৩ আগস্ট দুপুরের দিকে বোরকা পরা দুজন নারী এসেছিলেন মানসুরাকে দেখতে। মারিয়া তাদের সঙ্গে গেছে কিন্তু আর ফিরে আসেনি।
এ ঘটনায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে। অবশেষে গত ৭ জানুয়ারি মারিয়াকে ফেরত পাওয়া যায়।

এ সর্ম্পকে নির্ধারিত ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স আদুরী মণ্ডল সারাবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালের স্পেশাল ডিউটি করা কাকলীর মাধ্যমে মারিয়ার খোঁজ মেলে।’

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কাকলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘মোহাম্মদপুরের কালশী এলাকায় আমার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে মারিয়ার সংবাদ পাই। কালশী এলাকায় একজন বিহারি গত ১৬ ডিসেম্বর মারিয়াকে খুঁজে পান। তিনি মরিয়াকে চায়ের দোকানের সামনে কান্নারত অবস্থায় দেখেন। মারিয়া তাকে জানায়, সে একটি বাসায় কাজ করতো। সেখান থেকে সে পালিয়ে এসেছে। এরপর সেই বিহারি মারিয়াকে নিজের বাসায় নিয়ে যায়। তিনি আশেপাশের সবাইকে জানায় এবং পল্লবী থানায় একটি জিডি করেন। মারিয়া শুধু বলতে পেরেছিল তার মা সোহরাওয়ার্দী হাপসাতালে ভর্তি এবং মায়ের নাম মানসুরা। এই হাসপাতালে কাজ করার সূত্রে আমাকে কালশীর ওই বাসিন্দা তার আত্মীয়র কাছে থাকা মারিয়ার কথা জানায়। পরে আমি মারিয়াকে দেখে শনাক্ত করি। মারিয়াকে দেখানো হয় ফোনে থাকা মানসুরার ছবি। পরদিন শনিবার কাকলী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা উদ্যোগী হন । পরে হাসপাতাল ও পল্লবী থানায় মধ্যস্ততায় মারিয়া মায়ের কাছে ফিরে আসে।

গত সোমবার মারিয়া এ প্রতিবেদককে জানায়, তাকে হাসপাতাল থেকেই একটি বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সিএনজিতে করে। সে বাসায় তাকে দিয়ে সব কাজ করানো হতো, কিন্তু তাকে খাবার দেওয়া হতো না এবং মারতো। একদিন তাকে ময়লা ফেলতে বাসার নিচে পাঠানো হলে, তখন সে পালিয়ে আসে।

এদিকে, মেয়েকে ফেরত পেয়ে খুব খুশি মরিয়ম। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে তারা বলছে, আমি নাকি মেয়েকে বিক্রি করে দিছি। মাইয়া খালি আমারে বলতাছে, কতো টাকায় আমারে বিক্রি করছিলা তুমি? আমি মাইয়ারে বুঝাইতে পারি না, আমি ওরে বিক্রি করি নাই।’

মারিয়াকে ফেরত পাওয়াতে হাসপাতালের সবাই বেশ আনন্দিত। হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স আদুরী মণ্ডল সারাবাংলাকে বলেন, মেয়েটা ফেরত এসেছে এটাই ভালো খবর। কিন্তু আমাদের পক্ষে তো সবসময় ওদের দিকে নজর দেওয়া সম্ভব না, মা-মেয়ে অথবা যদি এই মেয়েটার কোনও পুনর্বাসনের চেষ্টা করা যেত তাহলে ভালো হতো। মেয়েটার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যদি কোনও সহৃদয় মানুষ বা প্রতিষ্ঠান এ মেয়েটার দায়িত্ব নিতো তাহলে তার একটা ভবিষ্যত হতো।

সারাবাংলা/জেএ/এনএস