।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।
চট্টগ্রাম: অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শরীরে সুচ রেখে সেলাই করে দেওয়ার মামলায় চট্টগ্রামের দুই চিকিৎসককে অব্যাহতির আদেশ হাইকোর্টে খারিজ হয়ে গেছে। এর ফলে ওই চিকিৎসকদের এই মামলায় বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। হাইকোর্ট দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২৮ মে) বিচারপতি মো. আব্দুল হাকিম ও এস এম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ওই রোগীর মায়ের দায়ের করা মামলা নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক হলেন, চট্টগ্রামের জেষ্ঠ্য শল্য চিকিৎসক সুরমান আলী এবং জাকির হোসেন।
বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত সারাবাংলাকে বলেন, ২০১৬ সালে চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত দুই আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশের বিরুদ্ধে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত সেটাও খারিজ করে দেন। এরপর বাদি হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেন। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের আদেশ খারিজ করে দিয়েছেন।
২০১২ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ছাত্র (বতর্মানে সাংবাদিকতা পেশায় আছেন) আমিনুল ইসলামের মলদ্বারে অস্ত্রোপচার করেছিলেন অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক। অস্ত্রোপচারের কয়েকদিন পর আমিনুল মলদ্বারে ব্যথা অনুভব করলে তারা দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট দেবাশীষ দত্ত অস্ত্রোপচার করে সেখান থেকে সুচ বের করেন।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ২০১৩ সালের ২৮ জানুয়ারি সুরমান আলী ও জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেন আমিনুলের মা দেলোয়ারা বেগম। আদালত এই অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
২০১৪ সালের ৩০ মে পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন ওই দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২৪ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট এ মামলার আসামি দুই চিকিৎসককে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশ দেন চট্টগ্রামের তৎকালীন মুখ্য মহানগর হাকিম মশিউর রহমান চৌধুরী।
এর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দাখিল করেন দেলোয়ারা বেগম। ২০১৬ সালের ৮ মে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ শাহে নূর রিভিশন খারিজ করে দেন।
এরপর বাদি হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে মামলা (২২৮৮৭/২০১৬) দায়ের করেন।
সারাবাংলা/আরডি/এমআই