Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া, নষ্ট হচ্ছে ফল-ফসল


২৯ মে ২০১৮ ২০:২৩ | আপডেট: ২৯ মে ২০১৮ ২০:২৬
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

।। ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট।।

 গাইবান্ধা: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে শতাধিক বিঘা জমির ধান এবং এলাকার বিভিন্ন গাছের আম, কাঠালসহ উঠতি ফসল। ফসল হারিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও তা কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে তেমন ভূমিকার রাখছে না।

জানা গেছে, গাইবান্ধায় প্রায় দুই থেকে আড়াইশ ইট ভাটা গড়ে উঠেছে। এর বেশিরভাগই লাইসেন্সবিহীন। সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে গড়ে ওঠা এসব ভাটার কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে এলাকার কৃষি ও পরিবেশ। এরই মধ্যে জেলার গোবিন্দগঞ্জের কোমরপুরে এম আর বি ইটভাটা, নাকাই কলেজ পাড়ার এম এ এন ইট ভাটা ও পলাশবাড়ীর এমবিডি ইট ভাটার বিষাক্ত ধোয়ায় এক থেকে দেড় শ’ বিঘা জমির ধান চিটা হয়েছে। এ ছাড়াও নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন ধরণের উঠতি ফসল ও গাছের আম-কাঁঠাল।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় কৃষক সোবাহান আলী অভিযোগ করেন, ইট ভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসর কারণে তার জমির ধানে চিটা হয়ে গেছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয় তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

কোমরপুর গ্রামের আালীম মিয়া জানান, তার বাড়ি ইটভাটা থেকে মাত্র কয়েকশ গজ দূরে। কিন্তু ভাটার কারণে তার গাছের আম-কাঁঠাল ও গাছের অন্যান্য ফল না পেকে গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ইট ভাটার কারণে ধান ও অন্যান্য ফসল নষ্টের কথা স্বীকার করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ছাড়া ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানান তিনি।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আব্দুর রাফিউল আলম জানান, স্থানীয় প্রশাসন অভিযুক্ত দুয়েককটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছে, মালিককে জরিমানা করে তা আদায় করা হয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সুযোগ নেই।

এ পরিস্থিতিতে আবাসিক এলাকা ও কৃষি জমির আশপাশের অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক ও এলাকাবাসীর।

সারাবাংলা/টিএম

** দ্রুত খবর জানতে ও পেতে সারাবাংলার ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে রাখুন: Sarabangla/Facebook