।। আন্তর্জাতিক ডেস্ক ।।
বেলজিয়াম, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, বুলগেরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের পর এবার বোরকা নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপের দেশ ডেনমার্ক। দেশটিতে এখন কেউ প্রকাশ্যে বোরকা পড়লে তার জন্য জরিমানা গুনতে হবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো নতুন এই আইনের সমালোচনা করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩১ মে) ডেনিশ পার্লামেন্টে বোরকা নিষিদ্ধের এই আইন পাস হয়। এর ফলে এখন থেকে দেশটিতে সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে পারবেন না। সংসদে আইনটির পক্ষে ৭৫ ভোট ও বিপক্ষে ৩০ ভোট পড়ে।
অ্যামনেস্টিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছে। তারা বলছে, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার পোশাকের স্বাধীনতা থাকা উচিত। অন্যকে বিব্রত না করে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী পোশাক পরার স্বাধীনতা থেকে মানুষকে বঞ্চিত করা উচিত নয়।
ইউরোপীয়ান দেশের মধ্যে ফ্রান্স প্রথম সম্পূর্ণ মুখ ঢেকে রাখে— এমন বোরকা নিষিদ্ধ করে ২০১০ সালে। এ নিয়ে ইউরোপে তখন তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। দেশটিতে শুধু বোরকা নয়, মুখ ঢেকে রাখে বা পরিচয় গোপন রাখতে সহায়তা করে— এমন যেকোনো পোশাক, মুখোশ, বালাক্লাভা, হেলমেট বা হুড নিষিদ্ধ। ফ্রান্সে বোরকা পড়লে ৩২ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে।

বোরকা নিষিদ্ধে ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত পর্যন্ত গিয়েছিলেন ফ্রান্সের মুসলিমরা। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। পরে ফ্রান্সের পথ ধরে ২০১২ সালে বেলিজিয়ামে নিষিদ্ধ করা হয় বোরকা। নেদারল্যান্ডসের স্কুলগুলোতে অবশ্য ২০০৭ সালেই মুখ ঢাকা নেকাব নিষিদ্ধ ছিল। এই নিষেধাজ্ঞা পরে অন্যান্য প্রকাশ্য স্থানেও কার্যকর করা হয়। স্পেনের বার্সেলোনাতেও মার্কেট বা পাবলিক বিল্ডিংগুলোতে বোরকা নিষিদ্ধ।
পশ্চিম ইউরোপ যখন বোরকা নিষিদ্ধের দিকে ক্রমেই আরো বেশি করে ঝুঁকে পড়ছে, তখন উল্টো পথে হাঁটেছে অনেক দেশই। তুরস্কে বহু দশক ধরে বোরকা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে ক্ষমতাসীন এ কে পার্টি এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। সিরিয়াতেও বোরকা পরার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু ২০১১ সালে সেখানে শিক্ষকদের নিকাবে মুখ ঢাকার অনুমতি দেওয়া হয়। তিউনিসিয়াও ২০১১ সালে মাথা ও মুখ ঢাকার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। এর আগে পর্যন্ত তিউনিসিয়ায় বোরকা ও হিজাবের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ছিল বেশ কঠোর। এমনকি রাস্তায় কাউকে হিজাব পরিহিত অবস্থায় দেখলে পুলিশ তাকে থামিয়ে হিজাব খুলে নেওয়ার নির্দেশ পর্যন্ত দিত।
সারাবাংলা/এমআইএস