Tuesday 29 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ওএইচসিএইচআর / আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২১:৫৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (ওএইচসিএইচআর) প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ওএইচসিএইচআরের ফরেনসিক চিকিৎসক আবু সাঈদের মামলার মেডিকেল রেকর্ড পরীক্ষা করেছেন। এতে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক ফরেনসিক মান অনুযায়ী আবু সাঈদের ময়নাতদন্ত করা হয়নি।

চিকিৎসকের নিজস্ব পরীক্ষায় মরদেহের ছবিসহ মেডিকেল তথ্যপ্রমাণে আবু সাঈদের শরীরে শটগানের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, তলপেটসহ তার বুকের ডান পাশে ৪০টি মেটাল প্যালেট এবং বাঁ পাশে ৫০টি মেটাল প্যালেটের আঘাত ছিল। ফরেনসিক বিশ্লেষণে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে যে আবু সাঈদকে প্রায় ১৪ মিটার দূর থেকে প্রাণঘাতী মেটাল প্যালেটসে ভরা শটগান দিয়ে অন্তত দুবার গুলি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে ছাত্র-শ্রমিক-জনতার বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃক ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দফতরের (ওএইচসিএইচআর) তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে বেপরোয়াভাবে পুলিশ গুলি করেছে। এতে আরও বলা হয়, আবু সাঈদ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।

ওএইচসিএইচআর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ভরযোগ্য একাধিক ভুক্তভোগী ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও ভিডিও চিত্রের ভিত্তিতে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে পুলিশের সরাসরি জড়িত ও দায়ী থাকার বিষয়টি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য এবং যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট দিয়ে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করেন, তখন ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন) সমর্থকদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ ‘শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে গ্যাসের শেল এবং ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করে। পুলিশ বিশেষভাবে আবু সাঈদের প্রতি সম্মান জ্ঞাপন করে জানিয়েছে, তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘মাথায় আঘাত ও গুলির চিহ্নের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি ওএইচসিএইচআর পরীক্ষা করেছে। এসব প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও মানোন্নয়নের কাজ করেছে ওএইচসিএইচআরের ডিজিটাল ফরেনসিক। এরপর তারা প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও মিলিয়ে দেখে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করে।

পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন ২৩ বছর বয়সী আবু সাঈদ। পরিবারের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া। শুরু থেকেই তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ১৬ জুলাই স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজারো শিক্ষার্থী (পুলিশের অনুমান অনুযায়ী ৩ থেকে ৪ হাজার) রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে বিক্ষোভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে শিক্ষার্থীদের বড় একটি দল জড়ো হওয়ার পর উত্তেজনা বেড়ে যায়।

ভিডিও ফুটেজের ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গুলি করার ফলে আবু সাঈদের ঘাড়, বুক ও বাহু থেকে দৃশ্যমান রক্তপাত হচ্ছিল। এরপর হাইপোভোলেমিয়া (রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের শূন্যতা) এবং মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা গিয়েছিল। যদিও বিশ্লেষণে তার মাথায় কোনো গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা মৃত্যুর বিকল্প কারণকে সমর্থন করে। যেমন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় আবু সাঈদের মাথা মাটি বা অন্য কিছুর সঙ্গে জোরে আঘাত পেয়েছিল।

সারাবাংলা/জিএস/এসআর
বিজ্ঞাপন

দেশের ৮ জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৪

আজ ঢাকার বাতাস 'অস্বাস্থ্যকর'
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৭

ছবির গল্প ভাসমান চাষে সবজি উৎপাদন
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:১৭

আরো