ঢাকা: কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দিয়ে চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে গণতান্ত্রিক কর্মসূচি সফল করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হই, গায়ে যদি আঘাতও লাগে, প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে লংমার্চ সফল করার মধ্যে সার্থকতা বেশি।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগামীকাল শনিবারের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এই লংমার্চ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানান তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ঢাকা থেকে রংপুর লংমার্চের রুটে থাকা সব জেলা ও মহানগর শাখায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ হবে। পরে সকাল ৮টার দিকে লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হবে।
তিনি জানান, পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে হবে সমাপনী সমাবেশ।
লংমার্চে হাজারের বেশি গাড়ি যুক্ত হবে দাবি করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, গাড়িগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। জনগণের ব্যাপক সাড়া এবং প্রশাসনের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলেও তারা আশা করছেন।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে আমরা ৬ দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছি। বর্তমানে আরেকটি দফা যুক্ত হয়ে সাতটি হয়েছে।’
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি যুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের কোটি কোটি মানুষের প্রাণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এ দাবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের কোনো দ্বিধা বা ভীতি থাকলে তা অবিলম্বে দূর করতে হবে। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততার দাবি করে তিনি বলেন, ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি মানুষ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। নারীরাও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে লংমার্চকে অভিবাদন জানাবেন বলে জানান তিনি।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ লংমার্চে যেন কোনোভাবে বাধা বা অন্তরায় সৃষ্টি করা না হয়।’
লংমার্চে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কারও উসকানিতে বা হাজারো উসকানিতেও পা দেবেন না। চরম ধৈর্য ও সংযমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আমাদের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে আমরা সফল করব।’
এ সময় সরকারি দল বিএনপি, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, ট্রাফিক বিভাগসহ রাস্তার দুই পাশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পথচারী, যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশ, জাতি ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য অতীতের বিভিন্ন আন্দোলনেও মানুষ সাময়িক কষ্ট ও দুর্ভোগ মেনে নিয়েছে।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, লংমার্চে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সংবাদ সংগ্রহ করতে আসবেন। তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। গণমাধ্যমের গাড়িগুলো বিনামূল্যে চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন বিভাগের প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।
লংমার্চে দেশবাসী ও ১১ দলের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও ড. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও ইয়াসিন আরাফাত এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মু. আতাউর রহমান সরকারসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।