ঢাকা: রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরির চক্রান্ত প্রতিরোধে নয়াপল্টনে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের যৌথ আয়োজনে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করে সংগঠনগুলো। ঢাকা মহানগরসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের হাজারো নেতাকর্মী দুপুরের পর থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে এসে জড়ো হন। বিকেল গড়াতেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সমাবেশ শেষে নয়াপল্টন থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘চব্বিশের গণআন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত রক্তস্নাত পরিবর্তনকে নস্যাৎ করতে এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। পতন হওয়া স্বৈরাচারী ও পরাজিত শক্তি শেখ হাসিনাকে দেশে পুনরায় রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করতেই এই নীল নকশা করা হচ্ছে। এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর গুলিবর্ষণকারী ফ্যাসিস্টদের আর কোনোদিন রাজপথে নামতে দেওয়া হবে না।’ একইসঙ্গে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শত্রুদের কোনো ধরনের আশকারা না দেওয়ার জন্য দেশের সকল রাজনৈতিক শিবিরের প্রতি জোর আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন ও রেলে অগ্নিসংযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত নাশকতার অংশ। দেশে গণতান্ত্রিক ও শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করার কাজ অব্যাহত রয়েছে; তবে একটি গোষ্ঠী সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে ফায়দা নেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত।’
জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস. এম. জিলানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে তিন সংগঠনের শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন তারেক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন।