গোপালগঞ্জ: মাদক নির্মূলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী।
তিনি বলেন, ‘মাদক শুধু একজন মানুষকে ধ্বংস করে না, এর প্রভাব পড়ে পরিবার, সমাজ এমনকি রাষ্ট্রের ওপরও। তাই মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন, পরিবার, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ‘মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
গোপালগঞ্জ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল জলিল।
হাফেজ মো. রুহুল আমিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন, পৌর বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা ওবায়দুল ইসলাম, মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম, মাওলানা শফিকুল ইসলাম ও মাওলানা জাকির হোসেনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।
এস এম জিলানী বলেন, ‘মাদক একটি মানুষকে ধ্বংস করার মধ্যেই থেমে থাকে না; ধ্বংস করে তার পরিবার, সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকেও। তাই মাদক নির্মূলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। ইমাম-মুয়াজ্জিন, পরিবার, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ— সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মসজিদে ধর্মীয় বক্তব্যের মাধ্যমে তারা মানুষকে মাদক ও সন্ত্রাসের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে পারেন। তাই মাদক নির্মূলে তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এস এম জিলানী বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পরিচালনা করছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে।’
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেশের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব ইমাম-মুয়াজ্জিনকে ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নেবে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে এস এম জিলানী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া তার জীবদ্দশায় ইসলাম ও আলেম-ওলামাদের নিয়ে কটাক্ষ বা বিরূপ মন্তব্য করেননি। তিনি সবসময় আলেম-ওলামাদের কথা শুনেছেন, তাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন এবং তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।’
আলোচনা সভায় বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতা, বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার মুহতামিমসহ ওলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।