দ্বাদশ বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ১৬৫ রান তুলেছিল আগে ব্যাটিং করতে নামা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুরের পিচ যেমন আচরণ করছে তাতে মনেই হচ্ছিল এই রান তাড়া করা কঠিন কাজ। কঠিন কাজটা করতে পারেনি সিলেট টাইটান্স।
পারভেজ হোসেন ইমন ভালো শুরু এনে দিয়েছিলেন। পরে স্যাম বিলিংস ও আফিফ হোসেন ধ্রুব স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন। তবে দুজনই ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ। বাকি ব্যাটারদের কেউই দাঁড়াতে পারেননি রাজশাহীর বোলিংয়ের বিপক্ষে। ফলাফল ১৫৩ রানে থেমেছে সিলেট।
১২ রানের জয় নিয়ে টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে রাজশাহী। প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। আগামী ২৩ তারিখ চট্টগ্রাম-রাজশাহীর শিরোপার লাড়াই।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৬৫ রানের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে সিলেট। একপ্রান্ত থেকে তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন চালিয়ে খেলছিলেন। অপর ওপেনার জাকির হাসান ও তিনে নামা আরিফুল ইসলাম ফিরেছেন শূন্য রানে।
এরপর স্যাম বিলিংসকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন পারভেজ ইমন। ইমন ৩৪ বলে ৫টি চার ২টি ছয়ে ৪৮ রান করে রান আউট হলে এই জুটি ভাঙে। বিলিংস ফেরেন ২৮ বলে ৩টি চার ১টি ছয়ে ৩৭ রান করে। মিডল অর্ডারে ১২ বলে ২টি চার ১টি ছয়ে ২১ রান করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। এছাড়া আর বলার মতো রানই করতে পারেননি সিলেটের অন্য কেউ।
২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানে থেমেছে সিলেট। রাজশাহীর শ্রীলংকান পেসার বিনুরা ফের্ন্দান্দো ৪ ওভারে ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে রাজশাহীর ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো হয়েছে। পাকিস্তানের ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম শুরুতে দ্রুত রান তুলেছেন। বিশেষ করে তামিম ছিলেন দারুণ আগ্রাসী। নিজের ইনিংস অবশ্য বড় করতে পারেননি বাংলাদেশি তরুণ। ১৫ বলে ৩২ রান করে আউট হয়েছেন দলীয় ৪১ রানের মাথায়। তামিম চার হাঁকিয়েছেন ১টি, ছক্কা ৪টি।
শাহিবজাদা ফারহান ২১ বলে ৪টি চার ১টি ছয়ে করেছেন ২৪। আজই বাংলাদেশে উড়ে আসা উইলিয়ামসন তিনে নেমে ইনিংস মেরামতে মনোযোগ দেন। দুই ওপেনার ফেরার পর একপ্রান্ত থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাচ্ছিল রাজশাহী। তবে অন্যপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন উইলিয়ামসন।
সেই ভীতের ওপর দাঁড়িয়েই শেষ দিকে ঝড় তুলতে পেরেছেন জেমি নিশাম। ১৯তম ওভারের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ২৬ বল খেলে ৪টি চার ২টি ছয়ে ৪৪ রান করেন জেমি নিশাম। উইলিয়ামসন অপরাজিত ছিলেন ৩৮ বলে ১টি চার ২টি ছয়ে ৪৫ রানে।
সিলেটের হয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন সালমান ইরশাদ। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাসুম আহমেদ।