দ্বাদশ বিপিএলের ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে ১৭৫ রান তুলেছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুরের পিচ যেমন আচরণ করছে তাতে বুঝাই যাচ্ছিল এই রান তাড়া করা সহজ কাজ নয়। কঠিন কাজটা করতে পারেনি চট্টগ্রাম রয়্যালস। বিপিএলের ফাইনালে ৬৩ রানে হেরেছে চট্টগ্রাম।
শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম শেষ পর্যন্ত থেমেছে ১১১ রানে। যাতে ৬৩ রানের জয় নিয়ে বিপিএলের শিরোপা ঘরে তুলল রাজশাহী। রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজির এটা দ্বিতীয় বিপিএল জয়। ২০২০ সালে রাজশাহী রয়্যালস জিতেছিল বিপিএল শিরোপা।
আজ শিরোপা নির্ধারনি ম্যাচে রাজশাহীর হয়ে ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। পরে বল হাতে ঝলক দেখিয়েছেন রাজশাহীর শ্রীলংকান পেসার বিনুরা ফের্নান্দো। ফলাফল রাজশাহীর একতরফা জয়।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৭৫ রানের জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই চাপের মধ্যে এগিয়েছে চট্টগ্রাম। ওপেনার নাঈম শেখ রান পাননি (১০ বলে ৯ রান)। অপর ওপেনার মির্জা বেগ অনেকক্ষণ ক্রিজে ছিলেন বটে, কিন্তু বলার মতো ইনিংস খেলতে পারেননি। আউট হয়েছেন ৩৬ বলে ৩৯ রান করে। পাকিস্তানি ওপেনার মির্জা বেগই চট্টগ্রামের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার।
এরপর এক আসিফ আলী ছাড়া বাকিদের মধ্যে কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম গুটিয়ে গেছে ১১১ রানেই। আসিফ আলী সাত নম্বরে নেমে ১৭ বল খেলে ১টি চার ২টি ছয়ে ২১ রান করে আউট হন।
রাজশাহীর হয়ে বিনুদা ফের্নান্দো ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়েছেন হাসান মুরাদ। ২৪ রানে দুটি উইকেট নিয়েছেন জেমি নিশাম।

এর আগে রাজশাহীর ব্যাটিং ইনিংসটা তানজিদ তামিমময়। টস জিতে আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম। মিরপুরের স্লো পিচে রান বেশি উঠছে না। ফলে আগে বোলিং করতে চাওয়াটা স্বাভাবিকই। তবে তানজিদ তামিম চট্টগ্রামের পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছেন।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। সেটা চলেছে ইনিংসের ১৯তম ওভার পর্যন্ত। পাকিস্তানি অপর ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান অবশ্য তার মতো বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে পারেননি। কিন্তু অন্যপ্রান্তে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তানজিদ।
শাহিবজাদা ফারহান ৩০ বলে ৩০ রান করে ফিরেছেন ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে। ওপেনিং জুটিতে রাজশাহী পেয়েছে ৮৩ রান। এরপর তিনে নেমে রানের গতিটা ধরে রাখতে পেরেছেন কেন উইলিয়ামসন। তবে কিউই তারকা ইনিংস বড় করতে ব্যর্থ। ১৫ বলে দুটি চার ১টি ছয়ে ২৪ রান করে আউট হয়েছেন।
এরপর জেমি নিশাম শেষ দিকে ঝড় তুলতে পারেননি। তামিম ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে ফিরেছেন ঠিক ১০০ রান করে। ৬২ বল খেলে ৬টি চার ৭টি ছয়ে এই রান করেছেন তরুণ ওপেনার। শেষ দিকে ৭ বলে ১১ রান করে অপরাজিত ছিলেন রাজশাহীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
চট্টগ্রামের হয়ে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ২০ রানে ও শরিফুল ইসলাম ৩৩ রানে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন। চট্টগ্রামের অধিনায়ক শেখ মাহেদি আর পাকিস্তানি পেসার আমির জামিলের বাজে দিন কেটেছে বল হাতে। দুজনই উইকেট পাননি। আমির জামিল চার ওভারে খরচ করেছেন ৪৩ রান, আর শেখ মাহেদি ৪৮ রান।