নাহিদ রানার গতির তোপে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানকে ১১৪ রানেই গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এই সংগ্রহ নিয়ে ওয়ানডে জিততে হলে পাকিস্তানের কাউকে বল হাতে নাহিদ রানার মতো দাপট দেখাতে হতো। পাকিস্তানিদের কেউ পারেননি। উল্টো তানজিদ হাসান তামিমের দাপুটে এক ফিফটিতে পাকিস্তানকে সহজেই হারিয়েছে বাংলাদেশ।
তানজিদের ঝড়ো ফিফটিতে ১৫.১ ওভারেই মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের ১১৪ রান পেরিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।
এই জয়ে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। সিরিজের পরের ম্যাচ আগামী পরশুদিন।
আগের দিন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছিলেন, মিরপুরে ট্রু পিচ চান। আজ দেখাও গেল তেমনটা। উইকেট দেখে মনে হচ্ছিল রানের উইকেট। কিন্তু নাহিদ রানার পেসে রানের পিচেও দিশেহারা পাকিস্তান!
বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটারকে বাহিরে রেখে নতুন কয়েকজনকে নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছে পাকিস্তান। বাবর আজম, শাদাব খান, মোহাম্মদ হারিস, ফখর জামানদের রাখা হয়নি দলে। তাদের অনুপস্থিতিতে আজ পাকিস্তানের হয়ে অভিষেক হয়েছে চার জনের। তারুণ্য নির্ভর পাকিস্তান খাবি খেয়েছে বাংলাদেশি বোলিং আক্রমণের সামনে।
বাংলাদেশ রান তাড়ার লড়াইয়ের শুরুটা অবশ্য ভালো করতে পারেনি। ওপেনার সাইফ হাসান ফিরেছেন দ্রুতই। ১০ বলে ৪ রান করা সাইফ শাহিন শাহর বলে ক্যাচ দিয়েছেন শামিল হাসানের হাতে।
তবে তারপর পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। বিশেষ করে তরুণ তানজিদ হাসান তামিম। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে সাথে নিয়ে দ্রুত রান তুলেছেন তানজিদ।
১৫.১ ওভারে বাংলাদেশের যখন জয় নিশ্চিত হলো তানজিদ তখন ৪২ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত। তানজিদ চার হাঁকিয়েছেন ৭টি, ছক্কা ৫টি। আগেই শান্ত ফিরে যান ৩৩ বলে ৫টি চারে ২৭ রান করে।

এর আগে নাহিদ রানা ক্যারিয়ার সেরা বোলিং করেছেন। আগে বোলিং করতে নেমে শুরুটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না বাংলাদেশের। পাকিস্তানের তুই ওপেনার প্রথম উইকেট জুটিতে তোলেন ৪১ রান। দশম ওভারে প্রথমবার বোলিং করতে আসেন নাহিদ রানা। সেই থেকেই পাকিস্তানি ব্যাটারদের নাচিয়েছেন বাংলাদেশের দীর্ঘদেহী পেসার।
পাকিস্তানের প্রথম পাঁচ উইকেটের পাঁচটিই নেন নাহিদ। একে একে ফেরান শাহিবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সালমান আলি আগাকে। সঙ্গে মেহেদি হাসান মিরাজও ভালো বোলিং করেছেন। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানও তাতে যোগ দিলেন।
সব মিলিয়ে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে গুটিয়ে গেছে পাকিস্তান। আট নম্বরে নেমে ৩৭ রান করা ফাহিম আশরাফিই পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ স্কোরার। ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান করেছেন ২৭ রান।