সিলেট টেস্টে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছে বাংলাদেশ। আগের দিনের দেড়শোর বেশি লিড নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা স্বাগতিকরা সকালে দ্রুত একটি উইকেট হারালেও পরে মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের দুর্দান্ত জুটিতে বড় লিডের পথে এগিয়ে যাচ্ছে স্বাগতিকরা।
সোমবার টেস্টের তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২০৩ রান। এতে দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের লিড দাঁড়িয়েছে ২৪৯ রানে। ক্রিজে অপরাজিত আছেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। লিটন ৬৬ বলে খেলেছেন ৪৮ রানের কার্যকর ইনিংস, আর মুশফিক ৮০ বলে করেছেন ৩৯ রান। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে ইতোমধ্যে গড়ে তুলেছেন অবিচ্ছিন্ন ৮৮ রানের জুটি।
দিনের শুরুতে বাংলাদেশের জন্য কিছুটা চাপ তৈরি করেছিলেন পাকিস্তানের পেসাররা। মেঘলা আকাশ ও ভেজা আউটফিল্ড কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিকভাবে লেন্থ বজায় রেখে বল করছিলেন তারা। বিশেষ করে খুররম শাহজাদ দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ব্যাটারদের পরীক্ষা নেন।
এমন পরিস্থিতিতেই ফিরে যান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। খুররম শাহজাদের অ্যারাউন্ড দ্য উইকেট থেকে ভেতরে ঢোকা বলে এলবিডব্লিউ হন শান্ত। ১১৫ রানে বাংলাদেশের চতুর্থ উইকেট পতন হয়। ৪৬ বল মোকাবিলা করে ১৫ রান করে ফিরেন শান্ত।
তবে এরপর আর ম্যাচে পাকিস্তানকে ফেরার সুযোগ দেননি লিটন ও মুশফিক। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। ট্রেডমার্ক কভার ড্রাইভ, পুল আর স্কয়ার অঞ্চলে দারুণ কিছু শটে নিয়মিত বাউন্ডারি আদায় করেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত সিঙ্গেল নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন।
অন্যদিকে মুশফিক ব্যাটিং করে গেছেন ধৈর্য নিয়ে। এক প্রান্ত আগলে রেখে ধীরে ধীরে ইনিংস গড়েছেন তিনি। তার অভিজ্ঞ ব্যাটিংয়ে হতাশ হয়েছেন পাকিস্তানি বোলাররা। একজন আক্রমণ সামলেছেন, অন্যজন রান তুলেছেন দ্রুতগতিতে—দুজনের এমন বোঝাপড়াতেই বড় লিডের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
সিলেটে প্রতিদিনই বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ম্যাচে বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। সোমবার সকালেও আকাশ ছিল মেঘলা, মাঝেমধ্যে পড়েছে হালকা ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টি। তবে খেলা বন্ধ করতে হয়নি। আগের রাতের বৃষ্টির কারণে আউটফিল্ড কিছুটা ভারি থাকায় বল বেশ কয়েকবার থেমে যেতে দেখা গেছে।
লাঞ্চের সময় পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ স্পষ্টভাবেই বাংলাদেশের হাতে। হাতে এখনও ছয় উইকেট থাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে আরও বড় সংগ্রহ গড়ে পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য দাঁড় করানোর সুযোগ রয়েছে স্বাগতিকদের সামনে।