আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে জয়ের জন্য সব উপলক্ষ্যই প্রস্তুত ছিল বাংলাদেশের জন্য। দুই ইনিংস মিলিয়ে আফগানদের বিপক্ষে ৪৭৯ রানের পাহাড়সম টার্গেট দাঁড় করিয়েছিল সফরকারীরা, হাতে ছিল পাঁচটি সেশন। এমন অবস্থায় শুরুতেই আবার দুটো উইকেট তুলেও নেয় বাংলাদেশ। তবুও কিনা ম্যাচে জয়ী দল নয় বাংলাদেশ!
ম্যাচের শেষ দিনে আফগান ব্যাটারদের অসাধারণ দৃঢ়তা আর বাংলাদেশের ফিল্ডারদের ক্যাচ মিস আর রান আউট মিসে শেষ পর্যন্ত ড্র হয়েছে আবুধাবি টেস্ট।
শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৭ উইকেট। আর জিততে আফগানিস্তানকে করতে হবে ৩৪৭ রান। শেষ দিনে এতো রান তাড়া করা অসম্ভবের কাছাকাছি। আফগানিস্তান সেই চেষ্টা করেওনি। দিনেও শুরু থেকেই রানের চিন্তা বাদ দিয়ে উইকেটে টিকে থাকার চেষ্টা করে গেছেন আফগানরা। এই চেষ্টাতে বাংলাদেশি বোলিং আক্রমণকে বিরক্তও করতে পেরেছেন তারা।
ফলাফল আবুধাবি টেস্টে জয়ের সমান ড্র পেয়েছে আফগানিস্তান। আর জয়ের সুবাস পেতে থাকা বাংলাদেশকে ফিরিতে হয়েছে ড্রয়ের হতাশা নিয়েই।
আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ৩ উইকেটে ১৩২ রান নিয়ে আজ শেষ দিনের খেলা শুরু করেছিল আফগানিস্তান। সাদিকুল্লাহ আতাল ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন, হাশমতউল্লাহ শাহিদি ১৯ রানে। এই সাদিকুল্লাহই ভুগিয়েছেন বাংলাদেশকে। উইকেটে মাটি কামড়ে পরে ছিলেন আফগান ওপেনার।
দলের সপ্তম ব্যাটার হিসেবে ফেরার আগে খেলেছেন ৩৩২ বল! বিপরীতে ৯টি চার আর ৩টি ছয়ে করেছেন ১১১ রান। আফগানিস্তানের অন্য ব্যাটাররাও রানের চিন্তা বাদ দিয়ে ক্রিজে টিকে থাকার চেষ্টাই করে গেছেন। অধিনায়ক রহমত শাহ যেমন ৫১ রান করতে খেলেছেন ১২৪ বল।
লোয়ার অর্ডার ব্যাটার ইশমত আলম ৬০ বল খেলে করেন মাত্র ৪ রান! পেসার ইয়ামিন আহমেদজাই ৮৫ বল খেলে করেন ১৯ রান।
বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ক্যাচ এবং রান আউটের সুযোগ মিস করাও এমন ড্রয়ের বড় কারণ। তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও ইবাদত হোসেন। অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৪৮ ওভারে ১১২ রান দিয়ে উইকেট নিয়েছেন কেবল একটি!
উল্লেখ্য, টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান তুলে আফগানদের ২৪০ রানে গুটিয়ে দিয়ে বড় লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ, তাতে আফগানদের সামনে ৪৭৯ রানের লিডের পাহাড় দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ড্র হলো আবুধাবি টেস্ট।