বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার স্বপ্ন হাতছানি দিচ্ছে বাংলাদেশকে। তবে দূরের হিসাব নয়, বাংলাদেশের টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোখ আপাতত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে।
বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক দারুণ পারফর্ম করছে। যাতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এখন চতুর্থ স্থানে। ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। সেই সম্ভবনা সত্যি করতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজটা জিততে হবে। জিততে হবে এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজও।
তবে বড় স্বপ্নের সমীকরণ নিয়ে বাড়তি চাপে পড়তে চান না শান্ত। বলেছেন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার সম্ভবনার কথা নিয়ে ভাবছেন না একদমই। শান্ত বলেন, ‘সত্যি বলতে, একদমই ওভাবে ভাবছি না (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল)। আমি শুধু এই টেস্ট ম্যাচটি নিয়ে ভাবছি, কেবল এই টেস্ট ম্যাচ—এমনকি সিরিজের দুই টেস্ট নিয়ে একসঙ্গেও ভাবছি না। একটি দল হিসেবে আমরা সবসময় চিন্তা করি কীভাবে এই ম্যাচটি বা এই সিরিজটি খেলব। কারণ আমরা যদি এই ধরনের ম্যাচ বা সিরিজ জিততে পারি, তাহলে ওই লক্ষ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই অর্জিত হবে। তাই দল হিসেবে আমরা ছোট ছোট লক্ষ্য নিয়ে ভাবছি, যা গত দু-এক বছর ধরে আমরা করে আসছি। আমি অনেক দূরের কথা ভাবছি না এবং এটাই মাঠে আমাদের ভালো খেলতে সাহায্য করে।’
তাঁর কাছে এই সম্ভাবনা চাপ নয়, বরং অনুপ্রেরণা। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, ‘এটা আমার কাছে চাপ না, অনুপ্রেরণাদায়ক। আমার মনে হয় যে টেস্ট ক্রিকেটে এরকম সমীকরণের অনেক কিছু আসছে, এটা ইন্সপায়ারিং। আমরা যখনই প্র্যাকটিস শুরু করেছি বা সিরিজটা নিয়ে কথা বলেছি, আমরা চিন্তা করেছি গত কয়েক বছর ধরে কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটটা খেলছি। আমরা বাড়তি কোনো কিছু করতে চাই না, আমাদের প্রক্রিয়াটাই অনুসরণ করতে চাই। আমরা যে জিনিসটা পারি, সেটাই ১০০ পার্সেন্ট দিয়ে করতে চাই।’
ফাইনালের স্বপ্ন থাকলেও আপাতত সেটিকে দূরে সরিয়ে রাখছেন অধিনায়ক। শান্ত বলেন, ‘আমরা কীভাবে এই সিরিজটায় ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি এবং ম্যাচ জিততে পারি, সেটাই মূল ফোকাস। মাঠের বাইরে যে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে, তা নিয়ে খুব বেশি উত্তেজিত না হয়ে আমাদের পা মাটিতেই রাখাটা জরুরি। যতটুকু অর্জন করেছি তা কিন্তু যথেষ্ট নয়, এখান থেকে আরও ২০-৩০ পার্সেন্ট উন্নতি করার মানসিকতা দলের প্রত্যেকের মধ্যে থাকতে হবে।’
রাত পোহালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়মে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ হবে সিলেটে, ৫ নভেম্বর থেকে। এই সিরিজের পরই দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে সেখানে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। তবে শান্তর বাংলাদেশের আপাতত মনোযোগ শুধুমাত্র আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া টেস্টটা নিয়ে।