সিলেট: সারাদেশের মত সিলেটেও হামের প্রাদুর্ভাবে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এ অবস্থায় প্রতিটি পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সামান্য সর্দি-জ্বর হলেই হতবিহ্বল হয়ে পড়ছেন অনেকে।
গত একদিনে সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাদের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল উমর মুনীর রাশেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে মারা যাওয়া চার শিশু হলো–সিলেট নগরের আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আব্দুল মুমিন ও সুমি বেগম দম্পতির আট মাসের শিশু সন্তান মাহদি হাসান (সন্ধ্যা ৬টা), দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আসামপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছয় মাসের শিশুসন্তান মুস্তাকিন (সন্ধ্যা ৭টা), রাত ১১টায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৭ মাস বয়সী শিশু জারা এবং রাত ২টা ৪৫ মিনিটে দিরাইয়ের রায়নগরের ৮ মাস বয়সী শিশু রাইহানা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ দেখা দিলে গত মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেল ৫টার দিকে মাহদিকে পিআইসিইউ-১ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শিশু মুস্তাকিনকে গত ৩ মে দুপুর ২টায় ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এবং একই হাসপাতালে রাত ১১টায় মৃত্যু হয় শিশু জারার।
এর আগে একই দিনে সিলেটের শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজিবুল ইসলাম নামে এক বছরের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর গ্রামের জাহিদুল ইসলামের ছেলে। এ ছাড়া চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যায় শিশু রাইহানা। এ নিয়ে সিলেটে হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ জনের মৃত্যু হলো।
সিলেট বিভাগের সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম জানান, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৩৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯২ জন ভর্তি আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৬ জন নতুন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে, সিলেটে হামের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওসমানী হাসপাতালে অতিরিক্ত একটি শিশু ইউনিট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর মুনীর রাশেদ। শনিবার থেকে ওসমানীর ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালকে হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বিভাগজুড়ে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ মানুষকে হামের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সাড়ে ১২ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৬ শতাংশের বেশি। আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।