ফরিদপুর: গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রমজান নামের ১০ বছর বয়সি এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মারা যাওয়া শিশু রমজান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার খয়েরহাট গ্রামের সিকান্দার শেখের ছেলে।
এ নিয়ে এ বছর মোট ১০ শিশুর মারা যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন ৫০ শিশুসহ ১৩০ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মে রাতে হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু রমজানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
এ ছাড়াও, সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় জ্বর, সর্দি-কাশি ও হামের উপসর্গ নিয়ে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জনসহ ওই দু’টি হাসপাতালে মোট ১৩০ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে জেলায় ১ হাজার ১১ রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। এ বছর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ জন শিশু মারা গিয়েছে; যাদের মধ্যে মাদারীপুরে ২, ফরিদপুরে ২, গোপালগঞ্জে ৩ এবং রাজবাড়ী, মাগুরা ও যশোরের একজন করে শিশু রয়েছে।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, গত ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশের ন্যায় হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি ফরিদপুর জেলায়ও চলমান রয়েছে, যা আগামী ১০ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র, ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জেলায় মোট ২ হাজার ৬৯৩ টি কেন্দ্রে হাম-রুবেলার টিকাদানের প্রস্তুতি রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।