ঢাকা: সমাজ থেকে দুর্নীতি নির্মূল না করতে পারলে এই সমাজ কোনোভাবেই মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, দেশের সার্বিক দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে বলে স্বয়ং রাষ্ট্রপতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সরকার যত উন্নয়ন পরিকল্পনাই গ্রহণ করুক না কেন, তার কোনোটিই সফলতার মুখ দেখবে না বরং সব অর্থ দুর্নীতিবাজদের পেটে চলে যাবে।
দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমানে আমাদের জাতীয় অর্থনীতি অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। দেশের ব্যাংকিং খাত এবং শেয়ারবাজারের মতো অর্থনীতির প্রধান দুটি শক্তিশালী স্তম্ভে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সকল প্রকার রাজনৈতিক দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে অবিলম্বে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালনা করা আবশ্যক। মেধাভিত্তিক নতুন সমাজ গঠনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে সকল প্রকার কোটা বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিগত আন্দোলনের মাধ্যমে তরুণ সমাজ কোটা প্রথার বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং কোনো প্রকার দলীয় আনুকূল্য না রেখে প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন করা জরুরি।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনকালের কড়া সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, গত ১৫ বছর ধরে তারা দেশের সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং গুম, খুন ও লাখো মামলা দিয়ে বিরোধী দলকে নিগৃহীত করে রেখেছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে এবং হাজারো বীর শহীদ ও আহতদের রক্তের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে। দেশের টাকা লুটপাটকারী ও চোরেরা ভয়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়েও দেশকে নতুন করে অস্থির করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ভারত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক রক্ষা করা উচিত। বাংলাদেশের চিহ্নিত অপরাধীদের সেখানে আশ্রয় দেওয়া এবং সীমান্তে সাধারণ নাগরিক হত্যা বন্ধ করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলা উচিত।
অর্থনৈতিক সংকটের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ তীব্র সংকটের কারণে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। শিল্পের মালিকেরা দেউলিয়া হয়ে গেলে ব্যাংক ও জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তিনি আরও বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া সংসদে পাস হওয়া সম্পদ হস্তান্তর আইনটি ধর্মীয় অনুভূতির সাথে সাংঘর্ষিক দাবি করে তিনি রাষ্ট্রপতিকে উক্ত বিলে স্বাক্ষর না করার অনুরোধ জানান এবং যৌথ আলোচনার মাধ্যমে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।