Monday 26 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

আনসার-ভিডিপি’র জনশক্তি ও পণ্য রফতানিতে নতুন উদ্যোগ, মুগ্ধ রাষ্ট্রদূতরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৩৫ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৪৮

আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

ঢাকা: বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) ৬০ লাখ সদস্যকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি বছর এক লাখ সদস্যকে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাহিনীটি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাহিনীর প্রান্তিক সদস্যদের তৈরি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি এবং ই-কমার্সের মাধ্যমে বিপণনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ গাজীপুরের সফিপুরের আনসার একাডেমিতে মালদ্বীপ, কসোভা, মরোক্ক ও সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রদূতরা একাডেমির বাহিনীটির সদস্যদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও উৎপাদন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদের সামনে বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, বিদেশে কর্মসংস্থান, পণ্য উৎপাদন বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শন শেষে মহাপরিচালক বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আস্থা ও কমপ্লায়েন্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করা, নির্ধারিত যোগ্যতা যাচাই এবং বেতন ও কর্মপরিবেশের বিষয়গুলো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আনসার-ভিডিপির সদস্যদের প্রশিক্ষণ, নিবন্ধন ও তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি নির্ভরযোগ্য কর্মসংস্থানব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সদস্যদের তথ্য ডিজিটাল ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে ভিসা প্রক্রিয়া ও টিকিটিং পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দক্ষ জনশক্তি রফতানিতে তিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির কথা উল্লেখ করেন মেজর জেনারেল সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, সরকার প্রধান বর্তমানে জাপান সফরে রয়েছেন। এই সফরে জাপানের তিনটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনসার-ভিডিপির সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা অনুযায়ী কর্মী প্রস্তুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীদের স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও কঠোরতা বজায় রাখার কথা জানানো হয়।

কসোভাসহ বিভিন্ন দেশ কর্মী নিয়োগ দিলেও তারা দুই বছর কাজের অনুমতি দেয় উল্লেখ করেন আনসার বাহিনীর প্রধান বলেন, অনেক দেশে কর্মীদের দুই বছর কাজের অনুমতি দেয়। এরপর ওই কর্মীদের ফিরে আসার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে। সেক্ষেত্রে আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি আমাদের বাহিনীর সদস্যরা নির্ধারিত মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে আসবে। এ জন্য বাহিনীর সদস্যদের এমনভাবে দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা নির্দিষ্ট মেয়াদে বিদেশে কাজ শেষে দেশে ফিরে আবার নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারেন।

এদিকে, চার দেশের কূটনীতিকদের পরিদর্শনের সময়ে আনসার-ভিডিপির সদস্যদের তৈরি বিভিন্ন পণ্যও দেখানো হয়। কুটিরশিল্প প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় তৈরি এসব পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিপণনের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।

আনসার-ভিডিপির প্রধান বলেন, বিদেশি ক্রেতাদের চাহিদা ও নকশা অনুযায়ী পণ্য তৈরি, মান যাচাই এবং বড় পরিসরে সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ই-কমার্স ও ই-মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, একজন সদস্য এককভাবে সীমিত পরিমাণ পণ্য তৈরি করতে পারলেও দলগতভাবে কাজ করলে বড় অর্ডার পূরণ করা সম্ভব। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় সদস্যদের দলবদ্ধভাবে উৎপাদনে যুক্ত করা, আর্থিক সহায়তা দেওয়া এবং ঋণের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ কার্যক্রম আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও প্রান্তিক শক্তি লিমিটেডের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

আনসার-ভিডিপির সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণব্যবস্থার আধুনিকায়নেও কাজ চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বাহিনীর সদস্যদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা গেলে একদিকে যেমন বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও তাদের অবদান বাড়বে। একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তায় বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পরিদর্শন অনুষ্ঠানে বাহিনীর উর্ধতন ও আনসার একাডেমির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর