Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

গাইবান্ধায় সন্তান বিক্রি করে দেওয়া সেই বাবা আটক, শিশু উদ্ধার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩২ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০১

নিখোঁজ শিশুটিকে পেয়ে খুশি তার পরিবার।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড় করতে মাত্র ৩১ হাজার টাকায় নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠা বাবা হামিদুল মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ধারাবাহিক অভিযানে প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলার সারবাজার এলাকা থেকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার পর হামিদুলকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ তাকে ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত বলে উল্লেখ করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয় বাসের হেলপার মজিদকে। এরপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে আটক করা হয় মোছা. মোরশেদাকে। সবশেষে মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

শিশুটির মা রুমানা আক্তার জানান, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান, এরপর আর ফেরেননি। ঘটনার দুই দিন পর ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার শর্তে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। পরে জানা যায়, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল।

সন্তান নিখোঁজ থাকার সময় রুমানা থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে- কিছুই জানি না।’

ডিবি পুলিশের অভিযানে শিশুটি উদ্ধার হওয়ায় মায়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন হামিদুল। সন্তান জন্মের পর নির্যাতন বেড়ে গেলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই হামিদুল নিজের কোলের সন্তানকে ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তার মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিশুটির নানি রোশনা বেগম বলেছিলেন,‘আমরা দিনমজুর ও দরিদ্র পরিবার। হামিদুলের দাবি করা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের ছিল না। নাতনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলাম।’

শিশুটি নিখোঁজ থাকা অবস্থায় গাইবান্ধা সদর থানার অপিসার (ওসি) নাজমুল হুদা বলেছিলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং শিশুটিকে দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর