Saturday 03 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ছেলেমেয়েদের চেহারায় আমি স্টিফেন হকিংকে দেখতে পাই: রাবি উপাচার্য

রাবি করেসপন্ডেন্ট
৩ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৪২

বক্তব্য দিচ্ছেন রাবি উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম।

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ছেলেমেয়েদেরকে আমি যখন দেখি তখন আমার চোখে স্টিফেন হকিংয়ের চেহারাটি ভেসে ওঠে, তাদের মধ্যে আমি স্টিফেন হকিংকে দেখতে পাই।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাল নজরুল ইসলাম ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যালারিতে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (পিডিএফ) উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আসলে অনেক কথাই বলতে ইচ্ছা করছে। প্রথমেই একটা কথা বলি, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড নবাগত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের পরিবারের সদস্য হয়ে আসার জন্য তোমাদের স্বাগত জানাই। আর যারা ছাত্রত্ব শেষ করে চলে যাচ্ছ, তাদের জন্যও অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও শুভকামনা। তোমরা যেভাবে এই জয়যাত্রা শুরু করেছ, তোমাদের পরবর্তী জীবনও সেভাবেই সুন্দর ও সাফল্যমণ্ডিত হোক।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ছেলেমেয়েদের দেখলে আমার চোখের সামনে স্টিফেন হকিংয়ের চেহারা ভেসে ওঠে। রাতে ঘুমানোর আগে আমি বারবার স্টিভি ওয়ান্ডারের গান শুনতে পছন্দ করি। স্টিভি ওয়ান্ডার জন্মান্ধ ছিলেন। তিনি গোটা বিশ্ব জয় করেছেন। আমি হেলেন কেলারের কথা চিন্তা করি। দেখি মাইকেল জে ফক্সকে, যিনি পারকিনসনস রোগে ভুগেছেন। অসাধারণ মানসিক শক্তি দিয়ে তারা পৃথিবী জয় করতে পেরেছেন, যেখানে আমাদের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা অনেকেই তা পারেনি। এটাই আপনাদের শক্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা একটি র‍্যাম্প চেয়েছেন, দু’টি লিফট চেয়েছেন, লাইব্রেরিতে ওঠার ব্যবস্থা চেয়েছেন। এগুলো অনেক আগেই আমাদের মাথায় এসেছে। আমাদের জন্য দোয়া করবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যত হাইরাইজ ভবন আছে, প্রতিটি ভবনে আপনাদের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতে যত ভবন নির্মাণ করা হবে, সেগুলো আপনাদের কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হবে।’

উপাচার্য বলেন, ‘আমি বারবার বলছি, আমার প্রশাসন কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য আসেনি, কাজ করার জন্য এসেছে। আমরা সেটাই করব এবং করে যাব। প্লিজ, আমাদের সহযোগিতা করুন। আপনাদের দাবিগুলো খুব বেশি কিছু নয়। একটি র‍্যাম্প নির্মাণ, লিফট স্থাপন—এগুলো সামান্য কাজ। কোটি কোটি টাকার কাজ হচ্ছে, আপনাদের কাজ কেন হবে না? আপনারা নিজেদের সর্বোচ্চ মানসিক শক্তি দিয়ে গড়ে তুলুন এবং আগামীর জন্য প্রস্তুত হন। আল্লাহ যদি আমাদের দায়িত্বে রাখেন, তাহলে আপনাদের পাশে আছি এবং থাকব।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপ-উপাচার্য ড. মো. মামুনুর রশীদ, সমাজকর্ম বিভাগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ফেরদৌস, সংগঠনটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টামণ্ডলীসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর