রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর কালুখালীতে কৃষক নজরুল ইসলাম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) নিহতের পরিবারের সদস্য ও রক্তদাতা সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের আয়োজনে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে নিহত নজরুল ইসলাম খানের বড় মেয়ে রহিতা আক্তার, ছোট মেয়ে রুনা খাতুন, স্বেচ্ছাসেবক শামিম ওসমান, মেহেদী হাসান মাহফুজ, শাহরিয়ার রিয়াদ, তুরান হাসান ও রিয়াদ মাহমুদসহ নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়নি। আগামী তিন দিনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধন শেষে নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের আম্রকানন চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে তারা জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে কৃষক নজরুল ইসলাম খান (৬০) হামলার শিকার হন। পরিবারের অভিযোগ, তার মেয়ের দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তার স্ত্রী জহুরা বেগম ও মেয়ে রুনা খাতুনও আহত হন। গুরুতর আহত নজরুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নজরুল ইসলামের মেয়ে রুনা খাতুন বলেন, তার বোনের একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ২৫ সেপ্টেম্বর তার বাবাকে বাড়ির সামনে ডেকে নিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হলে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট মেয়ে রুনা খাতুন বাদী হয়ে কালুখালী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. তুহিন সরদার ও গোলাপী বেগমকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গোলাপী বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, মামলায় আরও যাদের নাম রয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।