ইরানের সঙ্গে সম্পর্কিত ‘হুমকির’ কারণে যুক্তরাজ্যের একটি বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন বি-১ বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য জানিয়েছেন
রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) নেব্রাস্কার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, একটি ‘হুমকি’র বিষয়ে জানতে পেরেই তারা বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন বিমানঘাঁটিটি থেকে তাদের বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।
বিমানগুলো ইউরোপে মার্কিন বোমারু বিমানের জন্য প্রধান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্স বা আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ছিল। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন হামলায় এই বিমানগুলো ব্যবহৃত হয়েছিল।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের কাছে এমন আভাস ছিল যে, কোনো হুমকি থাকতে পারে। তাই আমি কেন তাদের সেখানে ফেলে রাখব? তাদের সরিয়ে নিতে খুব সামান্যই খরচ হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে হুমকির তথ্য ছিল-আর যখনই আমরা হুমকির মুখে পড়ি, তখন আমরা তাদের সরিয়ে ফেলি এতে করে সেই ঝুঁকিটা অনেকটা কমে যায়। তাছাড়া, যারা হুমকি দিয়েছে, আমরা আসলে তাদের চিনিও।’
তারা ইরানের সঙ্গে জড়িত কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইরানের সঙ্গেই জড়িত।’
এর আগে, সোমবার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, অতিরিক্ত সতর্কতার অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ওই বোমারু বিমানগুলোকে সরিয়ে নিয়েছে।
সাংবাদিকদের ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা মোটামুটি নিশ্চিত যে ইরান সেই কাজই করার চেষ্টা করছে যা তারা গত ৪৯ বছর ধরে করে আসছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র (এবং অন্যদের) বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া। তাই আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছি, এ বিষয়ে আমি এটুকুই বলব।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘বোমারু বিমানগুলো হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে ইরানের কোনো কথিত ষড়যন্ত্রের সরাসরি কোনো যোগসূত্র নেই।’
তিনি বলেন, ‘পেন্টাগন প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিনিয়ত তাদের সম্পদ বা রসদ পুনর্বিন্যাস করছে।’
সোমবার ন্যাটোর একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছিল, ‘এখনও মনে করা হচ্ছে যে, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা ও সম্পদের জন্য ইরান একটি গুরুতর হুমকি।’
রুবিও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সব ঘাঁটির নিরাপত্তার বিষয়ে দেশটির পূর্ণ আস্থা রয়েছে। লন্ডনের ৯০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। কারণ এটিই হাতেগোনা কয়েকটি ঘাঁটির মধ্যে একটি, যেখানে বি-১ এর মতো ভারী বোমারু বিমান ওঠানামা বা পরিচালনার উপযুক্ত সুবিধা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী সামরিক অভিযানগুলোতে এই ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যদিও এখানে কোনো বোমারু বিমান স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকে না।
ঘটনাটি নিয়ে অনেক কিছুই এখনো অস্পষ্ট থাকলেও, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেছেন যে, কোনো ষড়যন্ত্রের পেছনে সম্ভবত ইরানের মদত ছিল।
অন্যদিকে, কোনো ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগকে ইরান ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন,‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, ইরানের দৃঢ় বিশ্বাস-বিদেশি রাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা কথিত সন্ত্রাসীদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিই সবকিছু পরিষ্কার করে দেয়। আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন।’