ঢাকা: নদীভাঙন রোধে বার বার সাময়িক ব্যবস্থা না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটি। একই সাথে নদী শাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও গবেষণানির্ভর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দেশের বিপুল পরিমাণ পলি ব্যবস্থাপনা, ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের সঠিক কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং নদ-নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে সমন্বিত কৌশল গ্রহণের জোর সুপারিশ জানিয়েছে সংসদীয় এই কমিটি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া, মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর, খোন্দকার আবু আশফাক, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া এবং মোহাম্মদ কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সভায় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ এর অধীনস্থ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
বৈঠকে ভুগর্ভস্থ পানির নির্ভরতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানো এবং ভূগর্ভস্থ পানি পুনঃব্যবহার নীতি অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওয়ারপোর গবেষণার গতি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়। বিভিন্ন সংস্থার আলাদাভাবে খাল খনন না করে সমন্বিত নীতিমালার আওতায় নদী-খাল-জলাধার খননের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য নিষ্কাশনে নতুন মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ এবং পাউবোর পাঁচ হাজারের বেশি বকেয়া অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।