Sunday 11 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

দুর্নীতির অভিযোগ / জেলার বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসরে প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক

স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট
১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৩৫ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:০৪

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফাইল ছবি

ঢাকা: সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল পাস এবং আদালত সমন জালিয়াতির মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে বড় শাস্তির আওতায় এনেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী সই করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।

১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলা কারাগারে জেলার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন (১৭ জানুয়ারি ২০২৩ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪) মো. আব্দুল ফাত্তাহ ‘খোরাকী রেশন’ খাতে মারাত্মক সরকারি অর্থ তছরূপ ও অনিয়মে জড়ান।

কারা অধিদফতরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে, পঞ্চগড় জেলা কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত খোরাকী রেশনের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া, তৎকালীন জেল সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারা সহকারীর পরিবর্তে এক কারারক্ষীর (নং-০৭২৬২ মো. জাফর মাহামুদ শাকিল) মাধ্যমে ভুয়া বিল প্রস্তুত ও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হতো।

তদন্তে প্রমাণিত হয়, ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ এবং ‘শুভ স-মিল’ নামের তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৭টি ভুয়া বিল পাস করে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে সোনালী ব্যাংক পঞ্চগড় শাখায় নয়টি চালানের মাধ্যমে ওই টাকা জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যার মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ নিজে ৪০ লাখ টাকা জমা দেন।

অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘দুর্নীতি পরায়ণতার’ দায়ে তাকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়। তিনি বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।

আদালতের সমন জালিয়াতি ও বিমান বিল প্রতারণা

অন্য এক প্রজ্ঞাপনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গেন্ডারিয়া কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক (বর্তমানে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত) ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বিজ্ঞ আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের ভুয়া সার্টিফিকেট তৈরি করে সাক্ষ্য না দিয়েই সরকারি অর্থ তুলে নিয়েছেন। এ ছাড়া ভ্রমণের বিল ও বিবরণীতে অনুমোদনের স্থানে ভিন্ন সই থাকলেও সিল ব্যবহার করা হয়েছিল প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের।

তিনি ২০০০ সালে ৬ষ্ঠ গ্রেডে যোগদানের পর দীর্ঘ ২৩ বছরে বিমানযোগে ভ্রমণের প্রাধিকারভুক্ত না হওয়ার পরও শতাধিকবার বিমান ভ্রমণের ভুয়া বিল দাখিল করে ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা অনিয়ম করে তুলে নেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত শেষে সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর দায়ে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হলো।

উল্লেখ্য, দু’টি আদেশই অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সারাবাংলা/এমএইচ/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

মায়াবী রূপের আলোয় পরীমণি
১১ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৩৪

আরো

সম্পর্কিত খবর