Monday 21 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

সোনালি আঁশে ঘুরছে গ্রামীণ অর্থনীতি / পাট ও পাটখড়ি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২০০০ কোটি টাকা

রাব্বী হাসান সবুজ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৪

সোনালি আঁশে ঘুরছে গ্রামীণ অর্থনীতি। ছবি: সারাবাংলা

রংপুর: রংপুর অঞ্চলে পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করে এবার প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আয়ের আশা করছেন কৃষকরা। এ বছর প্রতিমণ পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভজনক। কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এই অঞ্চলের পাঁচ জেলায় ৫০ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ছয় লাখ বেলের বেশি। পাটের পাশাপাশি পাটখড়িরও ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা।

চাষিদের ঘরে ফিরেছে স্বস্তি

পাটের ভালো দামে রংপুরের কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। রংপুর সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের পাটচাষি আশরাফুল এবার আড়াই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। তিনি প্রতিমণ পাট তিন হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন এবং পাটখড়ি প্রতি আটি ৫০ টাকা।

বিজ্ঞাপন

পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের লিয়াকত আলী ২ একর জমিতে পাট আবাদ করে ফলন পেয়েছেন ৪০ মণ। প্রতিমণ ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। একই জমি থেকে পাটখড়ি পেয়েছেন ৭০ মণের বেশি, যা বিক্রি করে আরও ৩৫ হাজার টাকার বেশি আয় হবে তার।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে আবাদ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় (রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী) এবার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। গতবছরের তুলনায় এ বছর আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৯ হাজার ৯৩০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৫০ হাজার ৭০৮ হেক্টর জমিতে।

উৎপাদন হিসাবে প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ২৪ মেট্রিক টন এবং ১২ দশমিক ৩০ বেল পাট উৎপাদন হয়েছে। মোট উৎপাদন ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭০ বেল (গতবছরের চেয়ে তচার হাজার বেল বেশি)। পাট বিক্রি আনুমানিক এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা। পাটখড়ি বিক্রি আনুমানিক আড়াইশ কোটি টাকা। সবমিলিয়ে মোট আয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

বাজারে বর্তমানে তোষা জাতের পাট প্রতিমণ (৪০ কেজি) ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা এবং কেনাফ জাতের পাট ৫ হাজার ১০০ থেকে ৫ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর পাটখড়ি প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে গড়ে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা দরে।

উৎপাদনেই চ্যালেঞ্জ

পাটের ভালো দামে কৃষকরা খুশি হলেও উৎপাদনে কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছেন। চলতি মৌসুমের শুরুতে টানা অতিবৃষ্টি পাটগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করেছে। রংপুর অঞ্চলে এপ্রিল মাসে ৫০৪ মিলিমিটার এবং মে মাসে ৭৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা পাট চাষের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫০-২০০ মিলিমিটারের তুলনায় অনেক বেশি। এতে গাছ দুই থেকে পাঁচ ফুট খাটো হয়েছে এবং বিঘাপ্রতি ৪০-৬০ কেজি ফলন কমেছে। কাউনিয়া উপজেলায় পর্যাপ্ত পানির অভাবে পাট জাগ দিতে গিয়ে বাড়তি খরচের মুখে পড়েছেন অনেকে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে জানান, ‘এবার পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। কৃষকরাও দাম ভালো পাচ্ছে। পাট ও পাটখড়ি বিক্রি করে কৃষকরা আনুমানিক দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ঘরে তুলবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাটের ধারাবাহিক ভালো ফলন ও আকর্ষণীয় দাম পেয়ে কৃষকরা এ অর্থকরী ফসল চাষে আগ্রহী হয়েছেন। পাটকে জাতীয় কৃষিপণ্য ঘোষণা এবং বিভিন্ন খাতে পাটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক করায় চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে।

আলু চাষের ক্ষতি পোষাতে পাটের ভালো দাম

জানা গেছে, পাটের ভালো দাম রংপুরের কৃষকদের জন্য স্বস্তি বয়ে এনেছে, বিশেষ করে আলু চাষের ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে। চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও বাজারদর হিমশিম খাওয়ায় প্রতিকেজি আলু উৎপাদনে খরচ ১৮-১৯ টাকা হলেও বিক্রি হচ্ছে মাত্র আরও কম টাকায়। পাটের এই ভালো দাম অনেক কৃষককে আলুর লোকসান পুষিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সারাবাংলা/আরএইচএস/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর