সিলেট: জেলার আলমপুরে বিআরটিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সীমাহীন দুর্নীতি, ঘুস বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য সনদ জালিয়াতির অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সংবাদটির রেশ কাটতে না কাটতেই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সই করা এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালককে। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টরকে (এনডিসি)। আদেশে কমিটিকে দ্রুততম সময়ে সরেজমিনে আলমপুর ডিপোতে গিয়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহ, অনিয়মের অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই এবং সুনির্দিষ্ট সত্যতা চিহ্নিত করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জেলা প্রশাসকের কাছে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘সারাবাংলা ডটনেট’-এ সরকারি অর্থায়নে ও বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চার মাস মেয়াদি ‘মোটরযান ড্রাইভিং ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ’ কোর্সের হরিলুট নিয়ে ‘‘পরীক্ষায় পাস করাতে ইনচার্জ নেন ৩ হাজার টাকা ঘুষ, ‘ভুয়া ডাক্তার’ সেজে দেন স্বাস্থ্য সনদ’’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।
ওই প্রতিবেদনে কোর্স ইনচার্জ মাহবুব রহমানের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণার্থীদের পাস করানোর নামে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ আদায়, ওসমানী মেডিকেলের চিকিৎসকের সিল নকল করে নিজেই ‘ভুয়া ডাক্তার’ সেজে স্বাস্থ্য সনদ দেওয়া, জ্বালানি তেল আত্মসাৎ এবং মৃত বা অনুপস্থিত ব্যক্তিদের নামে ভুয়া হাজিরা দেখিয়ে ভাতা তোলার ভয়াবহ সব তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সারাবাংলায় এই অনুসন্ধানি প্রতিবেদন প্রকাশের পরই স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অবশেষে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় জেলা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।