Tuesday 29 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

রংপুরে ভোটার হতে এসে রোহিঙ্গা যুবক গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:৩৯

গ্রেফতার রোহিঙ্গা যুবক শওকত।

রংপুর: রংপুরের পীরগঞ্জে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন শওকত নামে এক রোহিঙ্গা যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকত্বের কাগজপত্র তৈরি করে বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পীরগঞ্জে এসেছিলেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজমূল হক। এর আগে সোমবার বিকেলে ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গেলে সন্দেহ হওয়ায় শওকতকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শওকত নিজেকে পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভোটার হতে আসেন। এ সময় তিনি নাগরিকত্ব সনদ, জন্মনিবন্ধনসহ বেশ কিছু কাগজপত্র জমা দেন। তবে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় তার কথাবার্তায় নির্বাচন কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল না থাকায় তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে শওকত জানান, ভোটার হওয়ার জন্য তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে পীরগঞ্জে এসেছেন। ওই ব্যক্তি তাকে পীরগঞ্জের নাগরিক বানিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে এখানে নিয়ে আসেন। পীরগঞ্জে আসার পর ওই ব্যক্তি তাকে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে নিয়ে যান। পরে তাকে সেখানে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও শওকতের ফোন থেকে মুছে দেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ কারণে ওই ব্যক্তির নাম-পরিচয়, ঠিকানা বা বর্তমানে তিনি কোথায় রয়েছেন, সে বিষয়ে শওকত কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে নির্বাচন কর্মকর্তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।

পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমূল হক বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, টেকনাফ থেকে একজন স্থানীয় ব্যক্তির মাধ্যমে ওই যুবক পীরগঞ্জে এসেছেন ভোটার হওয়ার জন্য। ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট স্থানীয় কিছু অসাধু জনপ্রতিনিধি ও নির্বাচন অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই চক্র ভুয়া পিতা-মাতা সাজিয়ে, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে এবং মৃত ব্যক্তির নাম ব্যবহার করেও এনআইডি তৈরি করে দিচ্ছে। একটি এনআইডি তৈরিতে ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্গাপূজায় ছুটি বাড়ল
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:০৮

আরো

সম্পর্কিত খবর