Monday 02 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

এবার চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি, ২ প্রবেশমুখে অবরোধের ডাক

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৫
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম ব্যুরো: নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া নিয়ে ধারাবাহিক আন্দোলনে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হচ্ছে। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয় আন্দোলনে জড়িত চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলির আদেশ জারি করেছে। বদলি প্রত্যাহার ও ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।

এদিকে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল করেছে। তবে পুলিশের বাধায় মিছিল নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। পুলিশের বাধার প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা বাতিলের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরের দুই প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এনসিটি আরব-আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে শনিবারও (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার দুইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ। তৃতীয়দিনে এসে আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়।

তিনদিনই কর্মবিরতি চলাকালে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কাজে যোগ দেননি। ফলে প্রায় সবধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। আমদানি-রফতানিকারকসহ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র মো. ওমর ফারুক আন্দোলনের নেপথ্যে বিশেষ মহলের ইন্ধন আছে কি না খেয়াল রাখার কথা বলেছিলেন।

এ অবস্থায় সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আট জনকে পায়রা বন্দরে এবং সাত জনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়েছে।

৩ ফেব্রুয়ারি টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। ছবি: সংগৃহীত

৩ ফেব্রুয়ারি টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী, বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা পরিদর্শন বিভাগের অডিট সহকারী মো. হুমায়ুন কবির ও ইঞ্জিন ড্রাইভার মো. ইব্রাহিম খোকনকে ঢাকার পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্ত হিসেবে বদলির একদিনের মধ্যে যথাক্রমে মোংলা ও পায়রা বন্দরে সংযুক্তি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন আন্দোলনকারী সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক। উভয়ে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের শীর্ষ নেতা।

একই আদেশে পানগাঁও টার্মিনালে সংযুক্ত চট্টগ্রাম বন্দরের এস এস খালাশি মো. ফরিদুর রহমান, উচ্চ বহিঃসহকারী মোহাম্মদ শফি উদ্দিন ও রাশিদুল ইসলামকে পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। এ ছাড়া, মোংলা বন্দরে আরও যাদের বদলি করা হয়েছে, তারা হলেন- চট্টগ্রাম বন্দরের উচ্চ বহিঃসহকারী আবদুল্লাহ আল মামুন, স্টোনো টাইপিস্ট খন্দকার মাসুদুজ্জামান, উচ্চমান সহকারী শাকিল রায়হান, ইসিএম ড্রাইভার মানিক মিঝি ও আমিনুর রসুল বুলবুল এবং মেসন শামসু মিয়া। পায়রা বন্দরে আরও যাদের বদলি করা হয়েছে, তারা হলেন- স্টোনো টাইপিস্ট জহিরুল ইসলাম, এস এস পেইন্টার হুমায়ুন কবির, ইসিএম ড্রাইভার লিয়াকত আলী ও খালাশি মো. রাব্বানী।

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আন্দোলন দমাতে সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে আমাদের হয়রানি ও দমন-পীড়ন শুরু করেছে। তবে এতে আন্দোলন স্তিমিত হবে না। বরং শ্রমিক-কর্মচারীরা আন্দোলন আরও জোরদার করবেন। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিল না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

এদিকে আজ সকাল ১১টায় নগরীর আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়ে সমাবেশ শেষে কালো পতাকা মিছিল বের করেন স্কপের নেতাকর্মীরা। তবে মিছিল বারিক বিল্ডিং মোড় পর্যন্ত যাবার পর পুলিশ আটকে দেয়।

এর আগে, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতনের সভাপতিত্বে এবং টিইউসি জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য ও জেলা টিইউসির সভাপতি তপন দত্ত, বিভাগীয় শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল বাতেন, বিএফটিইউসির যুগ্ম সম্পাদক রিজওয়ানুর রহমান খান, টিইউসি কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক ফজলুল কবির মিন্টু, শ্রমিক ফেডারেশনের এস কে বারী খোকন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, জেলা শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি সোহাগ হোসেন, মার্চেন্ট শ্রমিক নেতা নূর হোসেন ও মো. হোসেন, উপকূলীয় মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সমীরণ দাশ এবং রাজনীতিক রাজা মিয়া।

সমাবেশ থেকে আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল ১১টা থেকে নগরীর সী-ম্যান্স হোস্টেল ও ইসহাক ডিপো পয়েন্টে বন্দরের প্রবেশপথে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর