চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন থেকে প্রতিবছর চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে (চসিক) ২২৪ কোটি টাকা গৃহকর দেবে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ২২৪ কোটি টাকা গৃহকর পরিশোধ করবে।
সোমবার (২ নভেম্বর) চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিভাগীয় কমিশনার উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
চসিক সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে তাদের দাবি ছিল ২৬৪ কোটি টাকা। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ সেটি মানতে রাজি ছিল না। তাই চসিকের সিদ্ধান্ত না মেনে আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে গৃহকর কমানোর আবেদন করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে একাধিকবার শুনানি হয়।
দীর্ঘ শুনানি শেষে সর্বশেষ তারা ১০৩ পৃষ্ঠার একটি ফাইল জমা দেন। সোমবার চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিভাগীয় কমিশনার উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। গৃহকর হিসেবে বছরে ২২৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন।
চসিকের রাজস্ব সার্কেল-৭-এর কর কর্মকর্তা একেএম সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আগে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চসিক গৃহকর পেত বছরে ৪৫ কোটি টাকা। সারচার্জ বাদ দিলে তা ৩৫ কোটিতে নেমে আসত। প্রকৃতপক্ষে চট্টগ্রাম বন্দর বছরে ৩৫ কোটি টাকা গৃহকর পরিশোধ করত। দীর্ঘ শুনানি শেষে এখন থেকে বন্দর প্রতি অর্থবছরে ২২৪ কোটি টাকা গৃহকর প্রদান করবে।’
জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর অতি ভারী পরিবহণ চালানোর মাধ্যমে প্রতিনিয়ত চসিক এলাকার সড়ক অবকাঠামোর ক্ষতি করে থাকে। সেই ক্ষতিপূরণ চসিক কখনো দাবি করেনি। তবে হোল্ডিং ট্যাক্স যা আসে তা আদায়ের উদ্যোগ নেয় চসিক। এ বিষয়ে বন্দর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আপিল করেছিল। সোমবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।