Tuesday 03 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

শ্রমিক আন্দোলনে নাশকতার চেষ্টা করছে একটি মহল: তথ্য উপদেষ্টা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:৩৪ | আপডেট: ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:৩৭

ঢাকা: গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মজুরি কমিশন গঠন করেছে। এরপরও শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কোথাও কোথাও সহিংসতা ও নাশকতার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে একটি মহলের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমান্তের ওপার থেকেও নাশকতার চেষ্টা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি কমিশন গঠনের সময় নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘সাধারণত পাঁচ বছর পরপর শ্রমিকদের মজুরি পর্যালোচনা করা হয়েছে। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। সে হিসাবে ২০২৩ সালের পর ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি কমিশন গঠনের কথা ছিল না। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সহানুভূতিশীল অবস্থান থেকে আগেই কমিশন গঠন করেছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার কমিশন গঠন করেছে। ফলে শ্রমিকদের আন্দোলনের মূল দাবি পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। এরপরও আন্দোলন অব্যাহত রাখা এবং সহিংস আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘যারা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছেন, তারা প্রকৃত গার্মেন্টস শ্রমিক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেগুলোর পেছনে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর তথ্য রয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও বিবেচনায় রয়েছে।’

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবে, এমনটি সরকার বিশ্বাস করে না। তবে দলটির কাছে বিপুল পরিমাণ অর্থ রয়েছে, যা তারা অতীতে লুট করেছে। সেই অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। চলমান পরিস্থিতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা থাকলে তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

ডিসেম্বরকে সামনে রেখে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে কি না-এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বিষয়টিকে শুধু ডিসেম্বরকেন্দ্রিক হিসেবে দেখছে না সরকার। শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সরকার মনে করে। তবে সরকার এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করবে।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর শেখ হাসিনা সংসদে বলেছিলেন, এই সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেবেন না। তখনও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকারের বিরুদ্ধে তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছিলেন। এখনো সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।’

তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার চায় না, আগের সরকারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলপ্রয়োগ করুক। পুলিশের আইনগতভাবে বলপ্রয়োগের অধিকার রয়েছে। তবে তা অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া ও আনুপাতিক মাত্রা বজায় রেখে হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন, তারাও এ দেশের নাগরিক। তাই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের যাতে কম ক্ষতি হয়, সরকার সেটি নিশ্চিত করতে চায়। প্রাথমিকভাবে প্রকৃত শ্রমিকদের কিছু ন্যায্য দাবি ছিল। এখন কমিশন গঠনের পর তাদের বোঝানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে এলে অন্য কোনো পক্ষের পক্ষে সেই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো সহজ হবে না।’

শেখ হাসিনার পাসপোর্টসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হবে কি না-এমন প্রশ্নে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। তিনি নিজে দেশে আসুন কিংবা সরকার তাকে ফিরিয়ে আনুক—সরকার তাকে দেশে ফেরাতে চায়। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সরকার তা নেবে।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস চাইলে সরকার কী করবে-এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। আগাম সব পরিস্থিতির পরিকল্পনা করে সরকার বসে নেই।

বিরোধী দলের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ তুলে আগের আওয়ামী লীগ সরকারের মতো বর্তমান সরকারও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দোষারোপ করছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে বর্তমান সরকারের আচরণ এক করে দেখা ঠিক হবে না। একটি স্বৈরাচারী সরকার ও একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আচরণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণের কাছে কোনো মিথ্যা বা ভিত্তিহীন তথ্য উপস্থাপন করতে চায় না। যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলোর পেছনে তথ্য ও ভিত্তি রয়েছে বলেই সরকার এসব কথা বলছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর