Tuesday 03 November 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

যৌন হয়রানির প্রতিবাদ: ২৭ দিন ক্লাসের বাইরে উদয়ন স্কুলের ১০ শিক্ষার্থী, বিক্ষোভ

ঢাবি করেস্পন্ডেন্ট
৩ নভেম্বর ২০২৬ ১৯:৩৪

উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্য়ালয় – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্য়ালয়ে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ১০ শিক্ষার্থীকে ২৭ দিন ধরে ক্লাস থেকে বিরত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্কুলের ভেতরে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন।

উদয়ন স্কুলের আন্দোলনকারী নবম শ্রেণির আন্দোলনকারী ছাত্র বলেন, স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র তাসনিফ মুনিম এআই দিয়ে ক্লাসের একাধিক নারী শিক্ষার্থীর অশ্লীল ছবি তৈরি করে মেয়েদেরকে পাঠায়, তাদেরকে হুমকি দেয় এবং তাদেরকে কুপ্রস্তাব দেয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সে একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে ব্যাড টাচও করেছে।

অভিযুক্ত এই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে উল্লেখ করে বলেন, এই ঘটনার পর আমরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি। যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। কিন্তু এরপর সবকিছু আমাদের বিরুদ্ধে যেতে থাকে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এই ঘটনার পর সবকিছুকে তারা এমনভাবে উপস্থাপন শুরু করেছে যে যে কালপ্রিট তাকে ভিক্টিম হিসেবে দেখিয়েছে, আর আমরা প্রতিবাদ করেছি, আমাদেরকে কালপ্রিট হিসেব দেখিয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি বক্তব্যে অভিযোগ রয়েছে, তাসনিফ মুনিম ক্লাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন করেছে এবং ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে। তার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রমাণকে ফেইক হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকারীদের হয়রানি করেছে। মুনিমের মা ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে তাদেরকে হুমকি দিয়েছে, শিক্ষকরা অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছে এবং বাবা-মাকে চুপ থাকতে চাপ দিয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর ড. এ কেএম নূর আলম সিদ্দিকী ও ড. এনামুল হক সজীব-কে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দুই সদস্যই বিজ্ঞান অনুষদের অধীনে কাজ করেন এবং তাদের একজন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ভবনে বসবাস করেন।

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানিয়েছে, তাদের মধ্যে ১০ জনকে চিহ্নিত করে গত ২৭ দিন ধরে ক্লাস করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদেরকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালীন তারা ক্লাস করতে পারবে না। অথচ তিনদিনে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হলেও তা এখনো জমা দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী তাসনিম মুনিমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি-হুমকি বন্ধ করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে পুনর্বহাল করা এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম থেকে বাহিরে রাখা হয়েছে। শিখন ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি নিয়ে ওদের অনাস্থার বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। আমি আজকেই ভিসি স্যারের কাছে যাব। এ বিষয়ে পুনরায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।

তদন্ত কমিটি পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, তদন্ত রিপোর্ট আসার পর কোনো আপত্তি থাকলে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবে। কোনো ধরনের অবিচার হতে দেব না। এখানে কারও হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। কোনো কোনো পরিবারকে এ রকম চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর