সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড়ে পড়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদ। সম্প্রতি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনটি নতুন ছবি প্রকাশ করার পর তার মাথা, বুক ও পায়ে আঁকা ট্যাটু নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ছবিতে তাকে ন্যাড়া মাথায়, দাড়িযুক্ত চেহারায় ঠোঁটে সিগারেটসহ দেখা গেছে। গত বছর রোজার ঈদে ‘রাক্ষস’ সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে দারুণ সাড়া পাওয়ার পর এবার সিনেমাটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া প্রসঙ্গে এই ছবিগুলো আপলোড করেন তিনি।
নেটিজেনদের একাংশের দাবি, সিয়ামের শরীরে আঁকা ট্যাটুগুলো মূলত ইলুমিনাতি, বাল সত্ত্বা ও শয়তানের ছায়ার প্রতীক। বিশেষ করে অভিনেতার বুকে আঁকা শিংওয়ালা, ডানাযুক্ত ও পেশীবহুল দানবীয় অবয়বটি ঘিরে সমালোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। ধর্মীয় ইতিহাস ও পৌরাণিক তথ্য অনুযায়ী, ‘বাল’ এবং শয়তান বা ইবলিস সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি সত্তা। প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের ধর্মবিশ্বাসে ‘বাল’ ছিলেন বৃষ্টি, ঝড় ও উর্বরতার দেবতা, যিনি পরে ধীরে ধীরে মন্দের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পান। ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থে ‘বাল’কে ‘মিথ্যা ঈশ্বর’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে, যিনি মানুষকে সৃষ্টিকর্তার অবাধ্য করার চেষ্টা করেন। প্রাচীন পৌরাণিক গ্রন্থ ‘দ্য লেসার কি অব সলোমন’-এ তাকে প্রধান শয়তানের অধস্তন এক শক্তিশালী নরপতি বা অসুর হিসেবে দেখানো হয়েছে। ১৯২৮ সালে সিরিয়ার মাটির ব্লকে প্রত্নতত্ববিদরা প্রথম উগারিটিক ভাষায় লেখা ‘বাল’ সম্পর্কিত বিবরণ খুঁজে পান। সেই প্রাচীন নিদর্শন অনুযায়ী, ঐশ্বরিক সভার শাসনের মূলে থাকা তিনজনের মধ্যে ‘বাল’ ছিলেন অন্যতম এবং তার অনুসারীরা পশু ও শিশু বলির মতো জঘন্য কাজ করত। ২০১৫ সালে সিরিয়ায় ইসরায়েল বাহিনী চার হাজার বছরের পুরনো ‘বাল’ এর একটি মন্দির ধ্বংস করে। এছাড়া সম্প্রতি এপস্টিন ফাইলসের ফাঁস হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে ‘বাল’-এর যে শিংওয়ালা, ডানাযুক্ত ও পেশীবহুল দানবীয় অবয়ব দেখা গেছে, তার সঙ্গে সিয়ামের বুকের ট্যাটুর হুবহু মিল রয়েছে বলে নেটিজেনরা দাবি করছেন। তবে অনেকে মনে করছেন, পর্দার চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলার ব্যতিক্রমী উপস্থাপনের অংশ হিসেবেই সিয়াম এই লুক নিয়েছেন।