ক্লোজআপ ওয়ান খ্যাত জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী মশিউর রহমান রিংকুর সংগীতভুবন আজ স্তব্ধ। চারবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থমকে গেছে এই শিল্পীর রঙিন দিনগুলো। ২০২০ সালে শারীরিক অসুস্থতায় শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি এখন গ্রামের নিভৃত কোণে কাটছেন জীবনের কঠিন সময়। সুরের জাদুতে যিনি একসময় মাতিয়ে রেখেছেন কোটি মানুষের হৃদয়, সেই শিল্পী আজ ফিরতে পারছেন না তার প্রিয় গানের জগতে।
সম্প্রতি ‘পথের গল্প’ নামের একটি ট্রাভেল ডকুমেন্টারিতে রিংকু তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। নিজের ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি অত্যন্ত বাস্তববাদী ও কিছুটা বিষণ্ন। রিংকু বলেন, পুরোপুরি গানে ফেরার কোনো ইচ্ছা বা সম্ভাবনা এখন আর নেই। চারবার স্ট্রোক হওয়ার পর তিনি বুঝে গেছেন, যে ফর্মে তিনি গান করতে চেয়েছিলেন, তা আর সম্ভব নয়। তবে তার এই দীর্ঘশ্বাসের মধ্যেও টিকে আছে গানের প্রতি অসীম ভালোবাসা।
মশিউর রহমান রিংকুর কণ্ঠে ঝরে পড়ল এক গভীর আকুতি। তিনি বলেন, পরিপূর্ণভাবে ফিরতে না পারলে ফেরার কোনো প্রয়োজন নেই। তবে তার শেষ চাওয়া একটাই, তিনি বেঁচে থাকুন বা না থাকুন, তার সৃষ্টি করা গানগুলো যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায় বা নষ্ট না হয়। এই গানগুলোই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মনে করেন তিনি।
শহরের জীবনের কৃত্রিমতা ও মানুষের পরিবর্তন নিয়েও রিংকু তার আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তার ভাষায়, শহরের মানুষের ভালোবাসা অনেকটা কাজের বিনিময়ে পাওয়া ভালোবাসার মতো। কাজ থাকলে মানুষের মূল্যায়ন থাকে, আর কাজ ফুরালেই সব শেষ। রিংকু মনে করেন, কাজের প্রয়োজনে যারা একসময় তার পাশে ছিল, তারা আজ কেউই খোঁজ রাখে না। কারও কাছ থেকে কোনো সহানুভূতি চান না তিনি।
শহরের মানুষের এই স্বার্থপরতার বিপরীতে গ্রামের মানুষের সহজ-সরল ভালোবাসাকেই এখন আপন করে নিয়েছেন রিংকু। তিনি জানান, গ্রামের মানুষগুলোই এখন তার প্রকৃত বন্ধু। তাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসার মাঝেই তিনি খুঁজে পাচ্ছেন বেঁচে থাকার নতুন প্রেরণা। নিভৃত গ্রামে কৃষি খামার করে জীবনের বাকি দিনগুলো কাটিয়ে দিতে চাইছেন জনপ্রিয় এই কণ্ঠশিল্পী। তার বর্তমান লড়াইটা কেবল টিকে থাকার নয়, বরং নিজের সৃষ্টিকে আগলে রাখার।