ভাবুন তো— এক তরুণ, হাতে ছোট্ট একটা ব্যাগ, চোখে স্বপ্নের ঝিলিক, আর হৃদয়ে প্রতিজ্ঞা— একদিন গোটা মুম্বাইকে জয় করবে। সেই তরুণের নাম— শাহরুখ খান।
১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর, দিল্লির এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নিয়েছিলেন তিনি। আজ বয়স ৬১, কিন্তু প্রাণচাঞ্চল্য এখনো যেন ৩০-এর তরুণ! কারণ, শাহরুখ শুধু একজন অভিনেতা নন— তিনি এক অনুভূতি, এক ভালোবাসার নাম, এক উন্মাদনার প্রতীক।
দিল্লি ইউনিভার্সিটির হংসরাজ কলেজ থেকে অর্থনীতি পড়া সেই ছাত্র, নাটক আর টেলিভিশনের ‘ফৌজি’, ‘সার্কাস’ দিয়ে শুরু করেছিলেন অভিনয়যাত্রা। কিন্তু তার চোখে তখনও বড় পর্দার স্বপ্ন। ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ ছবির হাত ধরে শুরু হয় এক অনন্ত যাত্রা— যে যাত্রায় জন্ম নেয় এক কিংবদন্তি!
‘বাজিগর’, ‘ডর’, ‘আনজাম’— ভিলেন হিসেবেও যিনি দর্শকদের প্রেমে ফেলেছিলেন, আর ১৯৯৫-এ ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ দিয়ে যিনি হয়ে গেলেন বলিউডের ইতিহাসে ‘কিং অব রোমান্স’।
সময় কখনো তাকে হার মানাতে পারেনি। যখন সবাই ভেবেছিল, তার জাদু ফুরিয়েছে— ঠিক তখনই ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ আর ‘ডাঙ্কি’ দিয়ে প্রমাণ করেছেন—
শাহরুখ খান ফিনিক্সের মতো, বারবার ফিরে আসেন, আরও উজ্জ্বল হয়ে!
‘জওয়ান’-এর জন্য জাতীয় পুরস্কার জয়, ‘পাঠান’-এর বিশ্বজোড়া বক্স অফিস রেকর্ড— সব মিলিয়ে ২০২৩ ছিল শাহরুখের সোনালি প্রত্যাবর্তনের বছর।
শাহরুখের রাজত্ব শুধু সিনেমায় নয়— তার রাজ্য ছড়িয়ে আছে কোটি মানুষের হৃদয়ে। কলকাতা থেকে কানাডা, পাটনা থেকে প্যারিস— যেখানেই থাকুন, ‘আই লাভ ইউ শাহরুখ’ উচ্চারণে মিশে থাকে হাজার কণ্ঠের ভালোবাসা।
আর তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা— স্ত্রী গৌরী খান এবং সন্তানরা— আরিয়ান, সুহানা, আব্রাম। শাহরুখ নিজেই একবার বলেছিলেন— ‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন আমার পরিবার।’ যে মানুষটা পর্দায় প্রেম শেখায়, বাস্তবেও তিনিই ভালোবাসার সবচেয়ে নিখাদ প্রতীক।
প্রতি বছর জন্মদিনের মধ্যরাতে মন্নতের বাইরে শাহরুখের এক ঝলক দেখার আশায় ভিড় করেন হাজার হাজার অনুরাগী। বছরের পর বছর ধরে এই দৃশ্যই যেন অভিনেতার জন্মদিনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এবারও বাদ যায়নি সেই চেনা উন্মাদনা। তবে বাড়িতে সংস্কারের কাজ চলায় আপাতত বান্দ্রার পালি হিলের একটি বিলাসবহুল ডুপ্লেক্সে পরিবার নিয়ে রয়েছেন শাহরুখ। ফলে জন্মদিনে মন্নতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ভক্তদের শুভেচ্ছা জানানোর সুযোগ হয়নি তার।
তবে কিং খান যে ভক্তদের ভালোবাসাকে কখনও অবহেলা করেন না, তার প্রমাণ মিলেছে এবারও। মান্নাতে সশরীরে উপস্থিত না থেকেও অনুরাগীদের জন্য বিশেষ বার্তা পাঠিয়েছেন অভিনেতা। পাশাপাশি তার আসন্ন ছবি ‘কিং’-এর ভিজ্যুয়াল প্রজেকশন দিয়ে সাজানো হয়েছিল মন্নতের আশপাশের এলাকা। ফলে প্রিয় তারকাকে সামনে থেকে দেখতে না পেলেও জন্মদিনের আনন্দে সামিল হতে পেরেছেন অনুরাগীরা।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে মন্নতের বাইরে রাখা একটি বিলবোর্ড। সেখানে অনুরাগীদের উদ্দেশে নিজের হাতে একটি বার্তা লিখেছেন শাহরুখ। ভালবাসা ও শুভেচ্ছার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিনেতা লিখেছেন, “শুভেচ্ছা এবং ভালবাসা জানানোর জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমার তরফ থেকেও তোমাদের ভালবাসা পাঠালাম। অনেক ভালোবাসা এবং আলিঙ্গন।” বার্তার শেষে রয়েছে শাহরুখের নিজের হাতে করা স্বাক্ষর।
জন্মদিনে প্রিয় তারকার দেখা না পেলেও তার এই আন্তরিক বার্তায় মন ভরেছে অনুরাগীদের। পর্দার বাদশার কাছে যে ভক্তদের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, জন্মদিনের এই আয়োজন যেন আরও এক বার সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।
সময় কেটে যায়, প্রজন্ম বদলায়— কিন্তু শাহরুখ খান রয়ে যান একই রকম জাদুকর। কারণ, বাদশারা চিরকাল রাজত্ব করেন… আর শাহরুখ খান— রাজত্ব করেন আমাদের হৃদয়ে।