Thursday 11 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অতিরিক্ত কাপড়ে কি যাকাত হয়?

সারাবাংলা ডেস্ক
১১ জুন ২০২৬ ১৮:৩৯

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, আলমারি ভর্তি নিত্যনতুন জমকালো পোশাক কিংবা উপহার পাওয়া অতিরিক্ত শাড়ি-কাপড় থাকলে তার ওপর যাকাত ফরয হবে কি না?

বিশেষ করে শৌখিন বা বিত্তবান পরিবারে বছরের বিভিন্ন উৎসবে কাপড়ের সংখ্যা এত বেশি হয়ে যায় যা ব্যবহারের সুযোগই হয় না। ইসলামী শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, সাড়ে সাত তোলা সোনা কিংবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা (অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ) বছরজুড়ে জমা থাকলে যাকাত দিতে হয়। কিন্তু কাপড়ের ক্ষেত্রে নিয়মটি ভিন্ন।

ফকীহদের সিদ্ধান্ত ও শরিয়তের বিধান

ইসলামী আইনজ্ঞ ও ফক্বীহদের মতে, নিজের পরিধান বা ব্যবহারের জন্য রাখা পোশাকের ওপর যাকাত ফরয হয় না, তা সংখ্যায় যত বেশিই হোক কিংবা যতই মূল্যবান হোক না কেন। যেহেতু এগুলো ব্যবসার উদ্দেশ্যে রাখা হয়নি, তাই আলমারিতে জমিয়ে রাখা অতিরিক্ত পোশাকের জন্য কোনো যাকাত দিতে হবে না। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, সোনা-রুপার অলঙ্কার ব্যবহারের জন্য হলেও নির্দিষ্ট শর্তে তার যাকাত দিতে হয়, কিন্তু কাপড়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

পুরোনো ও অতিরিক্ত কাপড় সদকা করার ফজিলত

যদিও এসব কাপড়ের ওপর যাকাত দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবুও অতিরিক্ত কাপড় ফেলে না রেখে অভাবী মানুষকে দান বা নফল সদকা করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। হাদিস শরিফে ব্যবহৃত বা অতিরিক্ত পোশাক দান করার ব্যাপারে দারুণ সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

হজরত উমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন-

যে ব্যক্তি নতুন পোশাক পরিধান করার সময় এই দোয়া পড়বে:

‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি কাসানি মা উয়ারি বিহি আওরাতি ওয়া আতাজাম্মালু বিহি ফি হায়াতি’ (অর্থ: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এমন পোশাক পরিয়েছেন যা দিয়ে আমি আমার লজ্জাস্থান ঢাকতে পারি এবং জীবনের সৌন্দর্য লাভ করতে পারি);

এরপর সে তার পুরোনো বা অতিরিক্ত কাপড়টি কোনো অভাবী মানুষকে দান করে দেবে—সে জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও আল্লাহর বিশেষ হেফাজত ও নিরাপত্তার চাদরে আবৃত থাকবে।’ (জামে তিরমিজি)

তাই আলমারিতে পোশাকের স্তূপ না বাড়িয়ে, চারপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে সেগুলো সদকা করে দেওয়া একজন মুমিনের সুন্দর স্বভাব।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর