Wednesday 30 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অবলা প্রাণীদের জীবন রক্ষা আমাদের দায়িত্ব

তাসমিয়া সরকার
১৬ জুন ২০২৫ ১৬:৫৭
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রাণীরা কেবল নাম নয়, বরং অনুভূতিময় সত্তা ও প্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের প্রতি যত্ন ও ভালোবাসা আমাদের মানবিক দায়িত্ব। কুকুর, বিড়াল, ঘোড়া, বিভিন্ন রকমের পাখি প্রত্যেকেই প্রকৃতির নিজস্ব ছন্দে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই, আমাদের জীবনযাপন এমন হওয়া উচিত যেন তাদের কোনো ক্ষতি না হয়। উপযোগবাদের অন্যতম প্রবক্তা জেরেমি বেন্থাম স্পষ্ট করেছেন যে, প্রাণীকে খাবারের জন্য বা মানুষের জীবন রক্ষার্থে হত্যা করা যেতে পারে, তবে শর্ত থাকে যে, প্রাণীটিকে অপ্রয়োজনীয় কষ্ট দেওয়া যাবে না।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমাদের সমাজে প্রায়শই এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশে পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার অনেক উদাহরণ রয়েছে, যা বিভিন্ন রূপে প্রকট। পথচারী, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা, প্রায়শই রাস্তার কুকুর-বিড়ালদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে বা লাঠি দিয়ে আঘাত করে। থেঁতলানো পা, ভয়ভীতিপূর্ণ চোখ নিয়ে কুকুরছানাদের খুঁড়িয়ে হাঁটা বা চিৎকার করে পালানোর দৃশ্য খুবই সাধারণ। অনেক মানুষ কারণ ছাড়াই কুকুর-বিড়ালকে লাথি মারা, তাদের ওপর গরম পানি ঢেলে দেয়া বা অন্য কোনোভাবে কষ্ট দেয়।

বিজ্ঞাপন

গরু-মহিষের মতো প্রাণীদের অসুস্থ বা দুর্বল অবস্থায় অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো হয়, যা তাদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শহরের ব্যস্ত রাস্তায় প্রতিদিন অসংখ্য নিরীহ কুকুর ও বিড়াল যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা যায়। তীব্র রোদ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে প্রায়শই এই অবলা প্রাণীগুলো পার্ক করা গাড়ির নিচে আশ্রয় নেয়। চালকের আসন থেকে নিচে দেখা কঠিন হওয়ায়, গাড়ি ছাড়ার সময় অনেক চালকই তাদের দেখতে পান না।

ফলে, গাড়ি চলতে শুরু করলে চাকার নিচে চাপা পড়ে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো একটি সভ্য সমাজের মানবিক মূল্যবোধের প্রতি নীরব প্রশ্ন তোলে। চালকদের প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ, গাড়ি ছাড়ার আগে অনুগ্রহ করে একবার গাড়ির চারপাশে এবং নিচে ভালোভাবে দেখে নিন। এই সামান্য ১০-১৫ সেকেন্ড একটি নিরীহ প্রাণীর জীবন বাঁচাতে পারে এবং আপনার মনে শান্তি আনবে।

মানুষ হিসেবে আমাদের বুদ্ধি, বিবেক এবং সহানুভূতি রয়েছে। এই গুণগুলো ব্যবহার করে আমরা অবলা প্রাণীদের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারি। তাদেরও জীবন আছে, কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা আছে এবং এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। অবলা প্রাণীদের প্রতি সদয় আচরণ করা এবং তাদের যত্ন নেওয়া আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব। গৃহপালিত পশুপাখিদের সঠিক খাবার, আশ্রয় এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত। অসুস্থ বা আহত প্রাণীদের প্রতি বিশেষ নজর রাখা প্রয়োজন।

শিকার, বন উজাড় এবং পরিবেশ দূষণের কারণে অনেক বন্যপ্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে। তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা এবং অবৈধ শিকার বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রাণী সুরক্ষার জন্য প্রণীত আইন ও বিধিমালা মেনে চলা উচিত। প্রাণী নির্যাতন, পাচার বা অবৈধভাবে প্রাণী হত্যার মতো অপরাধ থেকে বিরত থাকা এবং এ বিষয়ে অন্যদের সচেতন করা আমাদের কর্তব্য। প্রাণী ও পরিবেশ একে অপরের পরিপূরক। পরিবেশ দূষণ রোধ এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা প্রাণীদের সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অবলা প্রাণীদের সুরক্ষা ও সংরক্ষণ শুধু তাদের জন্যই নয়, আমাদের নিজেদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য।

লেখক: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

সারাবাংলা/এএসজি