মানুষের নিঃস্বার্থ বন্ধু হিসেবে পোষা প্রাণীর জুড়ি নেই। একটি বিড়াল, কুকুর কিংবা পাখির মায়াবী খুনসুটি যেমন একাকিত্ব দূর করে, তেমনি মানসিক প্রশান্তিও দেয়। তবে শখের এই প্রাণীকে ঘরে আনার মানে হলো তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়া। সঠিক খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে সময়মতো চিকিৎসা, সবকিছুই নিশ্চিত করা প্রয়োজন মালিকের।
শুরু করার আগে প্রস্তুতি
অনেকেই হুট করে বাড়িতে প্রাণী নিয়ে আসেন, কিন্তু তাদের দেখভালের শ্রম ও সময় নিয়ে কোনো পূর্ব ধারণা থাকে না। তাই বাড়িতে কোনো পোষ্য আনার আগেই অভিজ্ঞ কারও সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। মনে রাখা জরুরি, আপনার সামান্য অবহেলা একটি অবলা প্রাণীর জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে।
নিরাপদ পরিবেশ ও বিচরণ
শহরের অ্যাপার্টমেন্টে পোষ্যদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবদ্ধ পরিবেশ। মানুষ যেমন এক জায়গায় থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে ওঠে, প্রাণীদের ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটে।
ঘোরাঘুরি: সম্ভব হলে প্রতিদিন বা সপ্তাহে কয়েকদিন পোষ্যকে নিয়ে বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। এতে তাদের মন ভালো থাকে এবং হারিয়ে গেলে পথ চেনার ক্ষমতা তৈরি হয়।
নিরাপত্তা: বিড়াল বা খরগোশ পাললে বারান্দা ও জানালায় অবশ্যই নেট ব্যবহার করুন। অসাবধানতায় ওপর থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টিকা (Vaccination)
মানুষের মতোই প্রাণীদেরও অসুখ-বিসুখ হয়। রোগ প্রতিরোধে সঠিক সময়ে টিকাদান আবশ্যক।
জলাতঙ্ক ও সংক্রমণ: কুকুর বা বিড়ালের বয়স ২-৩ মাস হলেই জলাতঙ্ক ও অন্যান্য ভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু করতে হবে।
কৃমিনাশক: প্রাপ্তবয়স্ক পোষ্যকে প্রতি তিন মাস অন্তর কৃমিনাশক ওষুধ বা ‘ডিওয়ার্মিং’ করানো জরুরি।
আধুনিক চিকিৎসা সেবা এখন দেশেই
এক সময় দেশে পোষা প্রাণীর উন্নত চিকিৎসার সংকট থাকলেও বর্তমানে চিত্রটি বদলেছে। সাধারণ ক্লিনিকের পাশাপাশি এখন বিশ্বমানের সেবা পাওয়া যাচ্ছে।
পেট হসপিটাল (পূর্বাচল): রাজধানীর পূর্বাচল নিউটাউনের ১৮ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ‘টিচিং অ্যান্ড ট্রেনিং পেট হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ এখন দেশের অন্যতম ভরসা। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটির অধীনে পরিচালিত এই হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম, সর্বাধুনিক প্যাথলজি এবং জটিল সার্জারির সুব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি এখানে পোষ্যদের জন্য বেড ও নার্সের সুবিধাও আছে।
সাশ্রয়ী সেবা: এছাড়া ধানমন্ডি, গুলশান, মিরপুর ও লালমাটিয়া এলাকায় বেশ কিছু প্রাইভেট ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। লালমাটিয়া ও মিরপুরের কিছু ক্লিনিকে তুলনামূলক কম খরচে সেবা পাওয়া যায়, যা সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য সহায়ক।
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব
শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি পোষ্যদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিন। অনেক সময় একাকিত্ব থেকে প্রাণীরা বিষণ্নতায় ভোগে। সম্ভব হলে একই প্রজাতির দুটি প্রাণী একসাথে রাখুন, যাতে তারা নিজেদের মধ্যে খেলাধুলা করতে পারে।