Monday 12 October 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

পুষ্টিগুণে ভরপুর অনন্য পানীয় ‘আম্বালি’

লাইফস্টাইল ডেস্ক
১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:৪৬

ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের পরিপাকতন্ত্রে নানা রকম প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে গরম কিংবা বর্ষাকালে বদহজম, পেটফাঁপা বা গ্যাস-অম্বলের সমস্যায় ভোগেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার! পেট ভালো রাখা ও হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখার অন্যতম চাবিকাঠি হলো খাদ্যতালিকায় ‘প্রোবায়োটিক’ বা উপকারী ব্যাকটেরিয়াযুক্ত খাবার রাখা। পেটের যত্ন নিতে দই, ছাস কিংবা লস্যির মতো পানীয় তো আমরা নিয়মিতই খেয়ে থাকি, কিন্তু এর সাথে চমৎকার একটি সংযোগ হতে পারে পুষ্টিগুণে ভরপুর প্রাচীন পানীয় ‘আম্বালি’।

আসুন জেনে নেই, অন্ত্রের (gut) স্বাস্থ্য রক্ষায় দারুণ এক প্রাকৃতিক পানীয় ‘আম্বালি’র রেসিপি…

বিজ্ঞাপন

আম্বালি কেন খাবেন? (পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা)

হজমশক্তি বৃদ্ধি ও গ্যাস দূরীকরণ: ফারমেন্টেশনের ফলে এতে প্রচুর পরিমাণ স্বাস্থ্যকর প্রোবায়োটিক তৈরি হয়, যা পেটফাঁপা, হজমের গণ্ডগোল ও বদহজম দূর করতে অতুলনীয়।

হাড় মজবুত করে ও রক্তাল্পতা কমায়: আম্বালিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম ও আয়রন, যা হাড়ের ঘনত্ব ঠিক রাখতে এবং অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ফাইবারে ভরপুর: এতে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকার কারণে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা আমেজ থাকে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা লাঘব হয়।

দেহে প্রশান্তি ও শীতলতা আনে: আর্দ্র বা গরম আবহাওয়ায় এটি শরীর ও পেটকে ভেতর থেকে ঠান্ডা ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

ঘরেই যেভাবে তৈরি করবেন আম্বালি

স্বাদ ও পুষ্টিতে ভরপুর এই পানীয়টি তৈরি করার প্রক্রিয়া খুবই সহজ…

প্রয়োজনীয় উপকরণ

রাগির আটা (৪–৫ টেবিল চামচ)
পানি (পরিমাণমতো)
টক দই (পরিমাণমতো)
সৈন্ধব লবণ (স্বাদমতো)
পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতাকুচি ও জিরাগুঁড়া (পরিবেশনের জন্য)
বরফ কুচি (ঐচ্ছিক)

তৈরি করার সহজ পদ্ধতি

১. কাই তৈরি: প্রথমেই ৪–৫ টেবিল চামচ রাগির আটা এক কাপ পানিতে ভালোভাবে গুলিয়ে নিন। কম আঁচে চুলায় বসিয়ে ক্রমাগত নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে কাইয়ের মতো হলে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।

২. ফারমেন্টেশন বা ভেজানো: এবার অন্য একটি পাত্রে পরিষ্কার পানি নিয়ে ঠান্ডা হওয়া রাগির মিশ্রণটি গোল গোল করে বলের মতো বানিয়ে ডুবিয়ে দিন। পাত্রটি ঢেকে সারারাত কোনো গরম বা উষ্ণ স্থানে রেখে দিন।

৩. মজে যাওয়া নিশ্চিত করা: সকালে ঢাকনা খুললে পানির ওপরে হালকা ফেনা দেখা যাবে। এটিই নির্দেশ করে যে মিশ্রণটিতে দরকারি উপকারী ব্যাকটেরিয়া জন্ম নিয়েছে।

৪. ঘুঁটে নেওয়া: এবার ডালঘুঁটনি বা কাঁটা চামচ দিয়ে পানি ও রাগির বলগুলো ভালোভাবে ঘুঁটে মিশিয়ে নিন।

৫. স্বাদ বাড়াতে দই মিশানো: এরপর স্বাদমতো সৈন্ধব লবণ ও ঘন টক দই দিয়ে লস্যির মতো মসৃণ করে ফেটিয়ে নিন।

কীভাবে পরিবেশন করবেন?

তৈরি হয়ে গেল আপনার শরীর ও পেটের জন্য পরম উপকারী আম্বালি। কাচের গ্লাসে ঢেলে ওপরে সামান্য কাঁচা পেঁয়াজকুচি, তাজা ধনেপাতাকুচি ও ভাজা জিরাগুঁড়া ছড়িয়ে দিন। তীব্র গরমে পান করতে চাইলে উপর থেকে কয়েক টুকরো বরফ ফেলে পরিবেশন করতে পারেন।

স্বাদ ও স্বাস্থ্যের এমন অপূর্ব মিলন সচরাচর দেখা যায় না। কৃত্রিম ও ক্ষতিকর কোমল পানীয় এড়িয়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর এই আম্বালি যুক্ত করুন; এটি আপনার পরিপাকতন্ত্রকে শান্ত রেখে আপনাকে রাখবে প্রাণবন্ত ও সতেজ!

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর