সুর্যকে বললাম,
তুমি বড্ড প্রখর।
সে মৃদু হেসে বলল-
জ্বালাই তো তোমারই পথ,
তুমি না চাইলে আমি কি এত উজ্জ্বল হই?
চাঁদ হাসে-
বলে পূর্ণিমা প্রেমময়।
তার আলোয় আমি শুনি,
তোমার নরম স্বপ্নের
নিঃশব্দ স্পন্দন।
শুনে সমুদ্র বলে-
তুমি আছ বলেই,
আমার গর্জন।
তোমারই অস্থিরতা
আমার ঢেউ হয়ে তীরে ভাঙে।
বাতাস এসে বলে
তোমার নিঃশ্বাসেই
আমার উড়ান।
তোমার অদেখা আকাঙ্ক্ষা
আমার দিগন্তে ছুটে যায়।
মেঘ থেমে বলে,
তোমার চোখের জলেই
আমার বৃষ্টি।
তোমারই অমলিন ব্যথা
আমি আকাশে ছড়িয়ে দিই।
পাহাড় নীরবে বলে,
তোমার দৃঢ়তায়ই
আমার উচ্চতা।
তোমার নীরব সাহস
আমাকে আকাশের কাছে তোলে।
নদী মৃদু সুরে বলে,
তোমার পথচলায়ই
আমার বাঁক বদল।
তোমারই অনিশ্চয়তা
আমার স্রোতে দিক খুঁজে পায়।
বনানী ফিসফিস করে,
তোমার নীরবতাতেই
আমার সবুজ গান।
তোমারই নিঃসঙ্গতা
আমার পাতায় পাতায় সুর তোলে।
তারারা দূর থেকে বলে,
তোমার স্বপ্নেই
আমার জ্বলজ্বলে আলো।
তোমারই অন্ধকারে
আমি পথ দেখানোর অঙ্গীকার রাখি।
শেষে আমি নিজেকে বলি,
প্রকৃতি তো আমিই,
আমার আলো-অন্ধকার,
আমার প্রেম-অস্থিরতা,
আমারই রূপে ছড়িয়ে থাকা
এক অনন্ত আলাপ।