Friday 24 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সেলসম্যান থেকে ‘কেটলিওয়ালা’ খুলনার আরজু

রেজাউল ইসলাম তুরান ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:০৮

‘কেটলিওয়ালা’র মালিক আরজু আহমেদ ও তার সহধর্মীনি নাজনীন আহমেদ। ছবি: সারাবাংলা

খুলনা: মোহাম্মদ আরজু আহম্মেদ। একসময় খুলনার নিউমার্কেটের একটি দোকানে সেলসম্যানের চাকরি করতেন। আর এই চাকরি দিয়ে সংসার চালানো ছিল রীতি মতো যুদ্ধ। তাই একসময় সিদ্ধান্ত নিলেন স্বাধীন পেশা গড়বেন। আর সেই পেশার মাধ্যমে বদলাবেন নিজের ভাগ্য। সেই প্রত্যয় ও প্রতিজ্ঞা থেকে শুরু করলেন চায়ের ব্যবসা। এখন তিনি কেটলির আদলে তৈরি ‘কেটলিওয়ালা’ টি স্টলের মালিক।

‘কেটলিওয়ালা’ টি স্টলটি খুলনার খালিশপুর থানার চরের হাটের আশার আলো রিভার ভিউ পার্কে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে গিয়ে সারাবাংলার এই প্রতিবেদকের কথা কয়, টি-স্টলের মালিক মোহাম্মদ আরজু আহম্মেদের সঙ্গে।

তিনি সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমার এই কেটলিওয়ালা স্টলটি প্রায় দেড় মাস আগে উদ্বোধন করেছি। আলহামদুলিল্লাহ ভালো সাড়া পেয়েছি। আমার ছোট্ট একটা স্বপ্ন হচ্ছে, খুলনাবাসীকে সবচেয়ে সুন্দর একটি জায়গায় বসিয়ে ভালো এক কাপ চা খাওয়ানো।’

বিজ্ঞাপন

আরজু আহম্মেদ বলেন, “আমার ছোট একটি চায়ের দোকান ছিল ‘রংয়ের চা’ টি স্টল নামে। এটি নেভি চেকপোস্টে ছিল। দোকানটি ছিল অনেক ছোট। ওইখান থেকে আসলে কেটলির আদলে চায়ের দোকান দেওয়ার বিষয়টি মাথায় আসে। এটা তৈরি করতে ছয় মাস সময় লেগেছে। কেটলিটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এটা এমএস স্টিল দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ভেতরে বোর্ড দিয়ে ডেকোরেশনের কাজ করা হয়েছে।’

‘কেটলিওয়ালা’র মালিক আরজু আহমেদের সহধর্মীনি নাজনীন আহমেদ। ছবি: সারাবাংলা

‘কেটলিওয়ালা’র মালিক আরজু আহমেদের সহধর্মীনি নাজনীন আহমেদ। ছবি: সারাবাংলা

তিনি আরও বলেন, “আমার দোকানে ‘চাবান চা’ পাওয়া যায়। যেটা হচ্ছে রং চা। এটার নাম দিয়েছি ‘চাবান চা’। এটার ভেতরে অনেক ধরনের মসলা দেওয়ার কারণে চাবানো পড়ে। সে কারণে ওই নাম দেওয়া হয়েছে। প্রতি কাপ চায়ের দাম ২০ টাকা। এ ছাড়া, দুধ চা, মালাই চা, তন্দুরি চা, কাশ্মীরি চা, রজিলা চা, বুলু চা, ব্লাক কফি, দুধ কফি, পোড়া রুটি, কলিজার সিঙ্গারা, নিমকিসহ আরও অনেক ধরনের খাবার পাওয়া যায়। বেচাবিক্রি যেটা চিন্তা করেছিলাম, তার থেকে ভালো হচ্ছে।”

আরজু আহম্মেদ বলেন, ‘আমি প্রতিদিন বিকেল ৪টায় দোকান খুলি এবং রাত ১১টায় বন্ধ করি। আমরা হচ্ছি নর্থ বেঙ্গলের। আমার বাবার বাড়ি ইন্ডিয়া। সেহেতু আমরা চা ছাড়া থাকতে পারি না। বাসায় আমার মা খুব ভালো চা তৈরি করতেন। সেই মায়ের চা বানানো দেখেই চা বানানো শিখেছি। কেটলিটা আমি দেড় মাস হয়েছে এখানে এনেছি। তবে তিন বছর আগে থেকেই আমি চা বানাতে পারি।’

তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার স্ত্রী মিলে এই দোকান পরিচালনা করছি। এ ছাড়া আমার তিনজন কর্মচারী রয়েছে। আমার দুই মেয়েও রয়েছে। ডাল-ভাত খেয়ে সুখে জীবন-যাপন করার মতো আল্লাহ আমাকে একটা ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বেচাবিক্রি হয় এখানে। আমার চেয়ে আমার স্ত্রী ভালো চা বানাতে পারে।’

‘কেটলিওয়ালা’ টি স্টলে চা-প্রেমীদের আড্ডা। ছবি: সারাবাংলা

‘কেটলিওয়ালা’ টি স্টলে চা-প্রেমীদের আড্ডা। ছবি: সারাবাংলা

আরজু আহম্মেদের স্ত্রী নাজনীন আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ আশার আলো রিভার ভিউ পার্কে আমাদের দোকান উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে চা প্রেমীদের অনেক সাড় পাচ্ছি। দূর দুরান্ত থেকে অনেকেই এখানে চা খেতে আসছে। তারা যখন চা খেয়ে প্রশংসা করে, তখন নিজের কাছে অনেক ভালো লাগে।’

চা খেতে আসা কবির শেখ সারাবাংলাকে বলেন, “এই দোকানের চা অনেক ভালো। আমি এখানকার ‘চাবান চা’ বেশি পছন্দ করি। এ ছাড়া, পাশ দিয়ে নদী বয়ে গেছে। এখানে বসে চা খাওয়ার মজাই আলাদা।”

চা খেতে আসা আফিয়া রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এই দোকানের দুধ চা এবং সঙ্গে পোড়া রুটি আমার খুব পছন্দের। আমি আমার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাঝে মাঝে এখানে চা খেতে আসি। এ ছাড়া এই দোকানটি যেখানে অবস্থিত সেই আশার আলো রিভার ভিউ পার্কে ঘুরে দেখার মতো অনেক কিছু রয়েছে।’

এখানে এলে যে কারও মন ভালো হয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর