Wednesday 10 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রংপুরে প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৫ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৩৭ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৫৮

বিদ্যুৎ ভবন, নেসকো।

রংপুর: রংপুর বিভাগের আট জেলায় টানা দশদিন ধরে তীব্র লোডশেডিং চলছে। শহরে প্রতি ১-২ ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে; আর উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে দিনে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এটিই বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ।

রংপুর নগরীতে ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হয়েছে। ভিআইপি এলাকা ছাড়া অধিকাংশ স্থানে একই চিত্র দেখা যায়। এতে দোকানপাট ও শপিংমল কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সালাম ও সোলায়মান আলী জানান, আইপিএস চার্জ করার সময়ই পাচ্ছেন না তারা। ৮-৯ ঘণ্টা এভাবে চললে দোকানদারি করা অসম্ভব।

জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের শাহাজাহান আলী বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে অনেক দোকান বন্ধ হয়ে যাবে, পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’

উপজেলা ও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও খারাপ। সন্ধ্যার পর থেকে ১ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

বদরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম বিপ্লব কুমার পাল বলেন, ‘আমাদের এলাকায় চাহিদা ২০ মেগাওয়াট, কিন্তু বরাদ্দ মাত্র আট মেগাওয়াট। গ্রাহকদের চাহিদা মেটানো অসম্ভব। ফলে গ্রামীণ এলাকায় মানুষকে দীর্ঘসময় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।’

লোডশেডিংয়ের সময় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। মোবাইলফোনে চার্জ না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে জরুরি যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

এসএসসি পরীক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর পড়াশোনায়ও ব্যাঘাত ঘটছে। অনেককে মোমবাতি বা মোবাইলফোনের টর্চের আলোয় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছে, এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষায় খারাপ ফল হবে, স্বপ্ন ভেঙে যাবে।

রংপুর অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) প্রকৌশলী শামসুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের কিছুই করার নেই।’

এ ছাড়াও নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম মণ্ডল বলেন, ‘রংপুর অঞ্চলের চাহিদা ১,০০০ থেকে ১,০৫০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ অনেক কম। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার তিনটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ থাকায় উত্তরাঞ্চলে সংকট আরও তীব্র হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর