Thursday 14 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সিরাজগ‌ঞ্জে মেয়েকে ধর্ষণচেষ্টা, পিতার ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৪ মে ২০২৬ ১৭:৩৩

দণ্ডপ্রাপ্ত পিতা আক্তার হোসেন।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে নিজের নয় বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বাবা আক্তার হোসেনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ২টার দিকে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতনের দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক বেগম সালমা খাতুন আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার হোসেন জেলার সলঙ্গা থানার বাসুদেবকোল গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের সঙ্গে কয়েক বছর আগেই আক্তার হোসেনের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। এরপর থেকে শিশুটি তার বাবার কাছেই বড় হচ্ছিল। গত বছরের ১২ এপ্রিল বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশের স্কুল মাঠে খেলা করছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় লম্পট বাবা আক্তার হোসেন শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন এক বাঁশঝাড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি স্থানীয় প্রতিবেশীরা দেখে ফেললে আক্তার হোসেন সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যান। পরবর্তীতে এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মামা বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আক্তার হোসেন জেলহাজতে ছিলেন।

মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মাসুদুর রহমান মাসুদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এটি একটি জঘন্যতম অপরাধ। যেখানে বাবার কাছে মেয়ের সবচাইতে নিরাপদ থাকার কথা, সেখানে এমন লালসার শিকার হওয়া সমাজের জন্য অশনিসংকেত। মাত্র এক বছরের মাথায় প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আদালত এই দৃষ্টান্তমূলক রায় দিয়েছেন। আমরা আশা করি, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছাবে।

বিচারক তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, নিজ সন্তানের প্রতি এ ধরনের বিকৃত আচরণ ক্ষমার অযোগ্য। সাক্ষ্য-প্রমাণে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশি পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার হোসেনকে পুনরায় সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায়ে এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাধারণত এ ধরনের পারিবারিক নির্যাতনের মামলাগুলো লোকলজ্জার ভয়ে ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে এই মামলায় ভুক্তভোগীর পরিবারের দৃঢ় অবস্থান এবং আদালতের দ্রুত রায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।